খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি বৈঠক, কমিটি গঠন

আপডেট : ১২ জুন ২০১৯, ০০:৫৬

অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়বে না। তবে হিসাবে দেখা গেছে, গত তিন মাসে খেলাপি ঋণ ১৭ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেছে। তাই খেলাপি ঋণ কমাতে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জরুরি সভা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণ বেশি বেড়েছে এমন ৭ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ডেকে নিয়ে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সভায় গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ খুঁজতে একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে যে কোনো উপায়ে চলতি জুনের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, খেলাপি ঋণ বাড়া সাতটি ব্যাংকের মধ্যে ৪টি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও ৩টি বেসরকারি। ব্যাংকগুলো হলো—সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, আল-আরাফাহ, ইসলামী ও ন্যাশনাল ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, তিন মাসেই দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এর ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অবলোপনের হিসাব বাদে খেলাপি ঋণ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল। এর আগে অবলোপনসহ খেলাপি ঋণ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। আর এখন অবলোপনসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১০ জানুয়ারি সব ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেছিলেন, আজ থেকে খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না। আর জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসেই খেলাপি ঋণ এত বাড়ল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল গণমাধ্যমে খেলাপি ঋণ বাড়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর চাপে পড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল কয়েকটি ব্যাংকের এমডিকে ফোন দিয়ে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ জানতে চান। এরপর হঠাত্ করেই বিকালে কেন্দ ীয় ব্যাংকে সভার আয়োজন করা হয়।

এদিকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ ও ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বিভাগের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে ও খেলাপি ঋণ কমাতে কাজ করবে।