কিশোরগঞ্জে ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২, ১৩:৩৩

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগির চিকিৎসা নিতে আসা খামারি ও গুরু ছাগল পালনকারী কৃষকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে বাধ্য হয়ে পল্লী চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে মোট ১১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন এবং ড্রেজারের পদটি শূন্য রয়েছে। মূল পদ দুটি শূন্য থাকায় অফিসটিতে অচল অবস্থা বিরাজ করছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক অসুস্থ গরু ও ছাগল নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। নিতাই ইউনিয়ন থেকে অসুস্থ বকনা বাছুর নিয়ে আসা আকলিমা খাতুন বলেন, বাবা আমার গরুটি গত তিন-চারদিন কিছু খাচ্ছে না। তাই গরু নিয়ে চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছি। কিন্তু দুই থেকে তিনঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও কেউ আমার গরুটির চিকিৎসা দেয়নি। পরে জানতে পারলাম অফিসে ডাক্তার নেই। তাই বাধ্য হয়ে গরু নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।

রবিবার (২১ আগস্ট) সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তিন থেকে চারজন কৃষক অসুস্থ গরু ও ছাগল নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। এসময় গরু ও ছাগলের মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, অনেক সকালে গরু ছাগল নিয়ে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছি কিন্তু কাউকে পাচ্ছি না। এসময় সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তাৎক্ষণিক অসুস্থ গরু ছাগলগুলোর চিকিৎসা শুরু করেন প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম এবং উপসহকারী প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা প্রাণী ও স্বাস্থ্য সবরুল হক।

তবে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদটি এবং ড্রেসারের পদটি শূন্য রয়েছে। আর ভেটেরিনারি সার্জন স্যার ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে আছেন। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনাক্কা আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন ট্রেনিংয়ে আছেন। আগামী দুই তিন-দিনের মধ্যে তিনি যোগদান করবেন।

ইত্তেফাক/মাহি