স্কুলে যাতায়াতে নৌকাই যখন ভরসা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২, ১৩:৫৬

সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে প্রতিকুল পরিবেশে কোমলমতি শিশুরা পড়ালেখা করছে। জেলার যমুনা নদীবেষ্টিত কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরের শিশুরা নানা প্রতিকুলতার মধ্যে স্কুলে যাতায়াত করে।  

গ্রীষ্মের সময় তপ্ত বালুচর পায়ে হেঁটে পার দিয়ে যেতে হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবার বর্ষার সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা অথবা ডিঙ্গি নৌকায় পার দিতে হয় যমুনা নদী অথবা এর শাখা নদী। নৌকা পার হতে নৌকা ডুবির ঘটনাও ঘটে থাকে। আবার প্রতি বছরই যমুনার ভাঙ্গনে ভিটে মাটি হারিয়ে এক চর থেকে অন্য চরে গিয়ে বসতি স্থাপন করতে হয় পরিবারগুলিকে। এ অবস্থায়ও শিশুরা পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হয়।  

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯ টি উপজেলার মধ্যে ৫ টি উপজেলার প্রায় ৩শ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্ধ শতাধিক উচ্চ বিদ্যালয় ও ৫টি জুনিয়র হাই স্কুল রয়েছে।  

এ বিষয়ে জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সোনতনী ইউনিয়নের বানতিয়ার ঘাটে বানতিয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের সায়েম, সোনিয়া, শাহানা, হাবিবা, অনিতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিনই নৌকা করে স্কুলে আসে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় নৌকা বিভিন্ন ঘাট থেকে শিক্ষার্থীদের তুলে নেয়। নৌকা একবার চলে গেলে সেদিন আর স্কুলে যাওয়া হয়না। 

তারা আরও জানায়, বর্ষায় নৌকা আর গরমে পায়ে হেটে অনেক দুরদূরান্ত আমাদের স্কুলে আসতে হয়। বর্ষায় যাতায়াত একটু সুবিধা হলেও মাঝে মধ্যে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে থাকে। এতে জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার চৈত্র বৈশাখ মাসে চরে যখন বালি ঝড় হয় তখন ঘরের বের হওয়া যায় না।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক  শিক্ষা কর্মকর্তা  মো. আপেল মাহমুদ বলেন, চর এলাকার বিদ্যালয় গুলিতে শিক্ষক সংকট থাকলেও সেখানে ডেপুটেশনে  শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে স্থায়ী ভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে । 

চৌহালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আফছানা ইয়াছমিন জানান, ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মাঝে ১০০ বাই-সাইকেল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকুরীজীবীদের চর ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। 

 

ইত্তেফাক/এআই