খুমেক হাসপাতালের র‌্যাবের অভিযান, আটক ৩২ 

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২, ২১:৩২

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র‌্যাব ও জেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের ৩২ সদস্যকে আটক করেছে। সোমবার বেলা পৌনে ১১ টার দিকে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ১৪ জনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে আর বাকিদের অর্থদণ্ডের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

খুমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার মিলন শেখ নামে একজন পিরোজপুর থেকে মায়ের চিকিৎসা করাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন। ঐ দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কারণে তিনি মায়ের মেডিক্যাল টেস্ট করাতে পারেননি। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ার কারণে সেদিনও অসুস্থ মায়ের শারীরিক পরীক্ষা করাতে পারেননি। ঐ দিন সকালে জনৈক এক দালালের মাধ্যমে তিনি সোনাডাঙ্গা ডক্টরস ল্যাবে পরীক্ষা করাতে যান। সেখান থেকে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যায় টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হবে। তিনি যথাসময়ে হাজির হয়ে রিপোর্ট হাতে পাননি। তাকে বলা হয় শনিবার দেওয়া হবে। সেদিনও তাকে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি র‌্যাবের কাছে জানান। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকালে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ৩৪ জনকে আটক করে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৬ এর পরিচালক লে. কর্নেল মোশতাক আহমদ তাৎক্ষণিক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা আমাদের একটি মৌলিক চাহিদা। নাগরিক তার স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। স্বাস্থ্যসেবা যখন পাল্টে যাচ্ছিল তখনও দালাল চক্র নাগরিকের গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছিল। হাসপাতাল ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বড় পরিসরে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ৩৪ জনকে আটক করা হয়। পরে বিচার বিশেষণ করে ৩২জনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়। এদের মধ্যে ১৮ জনকে সর্বোচ্চ তিন থেকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ১৪জনকে তিন হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভরাও রয়েছেন। 

সংবাদ সম্মেলন।

তিনি জানান, র‌্যাব-৬ এর উপ-অধিনায়ক আব্দুর রাকিব এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান। 

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী বলেন, দালালদের দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টার্গেট করে রাখা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎতপরতা চালিয়ে সোমবার ৩৪ জনকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ১৪ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। দুইজনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, মাঝেমধ্যে আমরা অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযান সফল হয় না। অভিযানের খবর পেয়ে দালালরা পালিয়ে যায়। র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে এদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। দালালদের কারণে সাধারণ রোগীরা ঠিকমত চিকিৎসা সেবা নিতে পারে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইত্তেফাক/এএএম