শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

করোনা টিকার বুস্টার ডোজে বেড়েছে অ্যান্টিবডি : গবেষণার ফল 

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২, ০৩:৩৪

অ্যান্টিবডির পরিমাণ কমে যাওয়ায় করোনা টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণকারীদের চতুর্থ ডোজ নিতে হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলো। তবে বুস্টার ডোজ গ্রহণের এক মাস পরে শতভাগ অংশগ্রহণকারীদের দেহেই অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। প্রায় সকলের ক্ষেত্রেই এর মাত্রা পুনরায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৮৭৮ AU/mL(আরবিট্রারি ইউনিট পার মিলিলিটার)। তবে বুস্টার ডোজ নেওয়ার ছয় মাস পরেও শতভাগ অংশগ্রহণকারীদের দেহেই এন্টিবডি পাওয়া যায় । কিন্তু প্রায় সকলের ক্ষেত্রেই এন্টিবডির মাত্রা কমে গড় মাত্রা দাঁড়িয়েছে ১০৬৭৫.৭ AU/mL। এর মধ্যে যাদের কোভিড আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবডির মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। রক্তের প্যারামিটারগুলোতে (হিমোগ্লোবিন, প্লেটলেটসহ অন্যান্য) উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোডিড-১৯ ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে এ ফল ঘোষণা করেন গবেষণার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য  (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, বেসিক সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শিরিন তরফদার, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, গ্রম্হাগারিক অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক, হেমাটোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ৬০ কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৬৪ লাখের বেশি মানুষ মৃতু্যবরণ করেছেন। স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং এই রোগে ২৯ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। কোভিড-১৯ বিপর্যয় প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম চলমান আছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ কোটি টাকার প্রথম ডোজ এবং ১২ কোটিরও বেশি দ্বিতীয় ডোজ এবং ৪ কোটিরও বেশি মানুষ বুস্টার ডোজ নিয়েছেন।

এ গবেষণায় বুস্টার ডোজ গ্রহণের ছয় মাস পর শরীরে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডির মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এর আগে পরিচালিত গবেষণায় দেখায় যায়, কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের এক মাস পরে পরিচালিত গবেষণায় ২২৩ জনের মধ্যে ৯৮ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। যারা পূর্বেই কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের শরীরে তুলনামূলক বেশি এন্টিবডি পাওয়া গিয়েছিল। টিকা গ্রহণের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে দেখা দিয়েছিল, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবডির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন টিকা গ্রহীতার ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৭৩ শতাংশের এন্টিবডির মাত্রা হ্রাস পেয়ে গড় এন্টিবডির মাত্রা ৬৭৯২ AU/mL থেকে ৩৯৬৩ AU/mL তে নেমে এসেছিল। এ সময় দুই জন টাকা গ্রহীতার দেহে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন