ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক টেলিভিশন ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলে এক "বিশেষ সামরিক অভিযান" শুরু করার ঘোষণা দেন। এরপরই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ নগরীজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠে।
এই যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন দুপক্ষের সামরিক শক্তির বিরাট ফারাক দেখে অনেকই ধারণা করেছিলেন, রাশিয়া বেশ দ্রুত বিজয় পাবে। রাশিয়ার মত এক বিরাট সামরিক পরাশক্তির বিরুদ্ধে ইউক্রেন কোন প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারবে না, এটাই মনে করা হয়েছিল।
কিন্তু ইউক্রেন শুরুতেই যে প্রতিরোধ গড়েছিল, তাতে অনেক সামরিক বিশ্লেষক পর্যন্ত অবাক হয়েছেন।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সমর বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, "বাইরে থেকে যারা এই যুদ্ধের ওপর নজর রাখছিলেন, তাদের প্রায় সবারই ধারণা ছিল যে, রাশিয়া খুব দ্রুত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখল করে নেবে, সরকারের পতন ঘটবে এবং লুহানস্ক এবং দোনেৎস্ক অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
কিন্তু ন্যাটো জোট যে এরকম বিপুল সামরিক, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সাহায্য ইউক্রেনকে দেবে, এটা অনেকে চিন্তা করেনি।"
তিনি বলেন, "দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনের সেনাদল নিজেদের দেশ প্রতিরক্ষায় যে এভাবে নিয়োজিত হবে, সেটাও অনেকে আশা করেনি। যখন রুশ বাহিনী কিয়েভ দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন ন্যাটো জোট এবং ইউক্রেনকে সমর্থনকারী অন্যান্য দেশ তাদের সাহায্যের পরিমাণ অনেক বেশি বাড়িয়ে দিল। ফলে যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক শক্তির যে বড় ফারাক ছিল, তা এখন আপাত দৃষ্টিতে প্রায় সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে।" বিবিসি
