বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী বলেছেন, বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সরকার দীর্ঘ সময় এ খাতে ভর্তুকি দিতে পারবে না। চিকিৎসা ব্যবস্থার মান এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যেন বিদেশ থেকে মানুষ এ দেশে চিকিৎসা নিতে আসে। আমাদের প্রবাসী শ্রমিকগণ অনেক কষ্টের বিনিময়ে এ দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করছে অথচ আমরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সে মুদ্রা দেশের বাইরে ঢেলে আসছি, এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে। দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করতে ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁদের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট পৃথিবীর জঘন্যতম ও ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে সব ধরনের মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। দীর্ঘ সময় স্বাধীনতা বিরোধীরা ভোটের অধিকার হরণ করে এ দেশের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে জাতির পিতার পরিবারকে হত্যার বিচার চাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। উল্টো বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করা হয়। মানবতা বিরোধীদের মুখে মানবাধিকার ও ভোটাধিকারের প্রশ্ন শোভা পায় না। আজ তাদেরই উত্তরাধিকারেরা খালেদা জিয়াকে বাসায় বসে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগদানকারী ও লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দান করে মানবতার অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কিভাবে মানবতা ও ভোটাধিকারের প্রশ্ন করেন?”
চিফ হুইপ বলেন, জাতির পিতা আমাদেরকে একটি পবিত্র সংসদ ও সংবিধান দিয়ে গেছেন। নিজামী, মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর মত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে লাল সবুজের পতাকা তুলে দিয়ে সংসদের পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে। এখন আবার সংসদ পবিত্র হয়েছে কিন্তু সংসদীয় এলাকায় এখনও স্বাধীনতাবিরোধী ও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনের কুশীলবদের লাশ রয়ে গেছে। কমিশন করে এসব স্থাপনা উৎখাতের মাধ্যমে সংসদের মাটিকে পবিত্র করতে হবে।
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ সামসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং উপাধ্যক্ষ ডা. মিজানুর রহমান কল্লোলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু ও কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ।
