জাপোরিজ্জিয়া পরিদর্শনে যাচ্ছে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ০৩:৫৮

ইউক্রেনে অবস্থিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে যাচ্ছে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার একটি পরিদর্শক দল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, এই সপ্তাহে দলটি জাপোরিজ্জিয়ায় যাবে।

এদিকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জি-৭ গ্রুপ। তারা বলেছেন, ‘আমরা ইউক্রেনে অবস্থিত সব পারমাণবিক স্থাপনার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দাবি করছি।’ স্পর্শকাতর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আশপাশে ইউক্রেন ও রুশ যোদ্ধাদের প্রায় লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিয়েভের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি লক্ষ্য করে একাধিকবার গোলাবর্ষণ করেছে রুশ বাহিনী। এ অবস্থায় কেন্দ্রটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ নিয়ে রাফায়েল গ্রোসি টুইট বার্তায় বলেন, ইউক্রেন ও ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। গত মার্চ থেকে কেন্দ্রটি দখলে রেখেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত স্থাপনাটির আশপাশে রুশ-ইউক্রেনের লড়াই তীব্র আকার নেওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ লক্ষ করা গেছে। ঐ এলাকায় গোলাবর্ষণে একে অন্যকে দায়ী করে আসছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। কয়েক দিন আগে প্রথমবার কেন্দ্রটির সঙ্গে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সংযোগ বিচ্ছিন্নে রাশিয়াকে দায়ী করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, পারমাণবিক কেন্দ্রে বিকিরণের বিপর্যয় থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে ছিল বিশ্ব। তবে বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় প্ল্যান্ট সচল রাখা হয় বলেও জানান তিনি।

আইএইএ মহাপরিচালক বলেন, ‘প্রতিদিনই পারমাণবিক কেন্দ্র অথবা কাছাকাছি নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে। আমরা আর সময় হারাতে চাই না। আমরা চাই এই মুহূর্তে আমাদের সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ইউক্রেনের মানুষকে রক্ষা করা। কেননা পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশে যেভাবে বিভিন্ন হামলা ও সংঘর্ষের খবর আসছে তাতে আমাদের বড় ধরনের ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হামলা হলে এর থেকে যে বিকিরণ বের হবে তা কতটা ভয়াবহ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই আমরা চাই দ্রুত এ পারমাণবিক কেন্দ্রটিকে রক্ষা করা হোক।’ এদিকে জাপোরিজ্জিয়া পরিদর্শনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জি-৭। তারা বলেছে, যত দ্রুত সম্ভব এই প্ল্যান্টটিকে রক্ষা করা হোক। অন্যথায় বিশ্ব এক কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বে। গ্রুপটি জানায়, ‘আমরা অবিলম্বে এর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাতে আমরা জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

ইত্তেফাক/ইআ