বিশ্বের নিঃসঙ্গতম ‘গর্তের মানুষ’ এর মৃত্যু 

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ১৩:৩২

ব্রাজিলের আদিবাসী সুরক্ষা সংস্থা ফুনাই শনিবার (২৭ আগস্ট) জানিয়েছে, যোগাযোগহীন ব্রাজিলীয় আদিবাসী উপজাতির শেষ সদস্য মারা গেছেন। তিনি 'গর্তের মানুষ' নামে পরিচিত। গভীর গর্ত খনন করার জন্য তিনি 'ম্যান অব হোল' বা 'গর্তের মানুষ' নামে পরিচিত ছিলেন। খবর সিএনএনের।

সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনালের মতে, তিনি রন্ডোনিয়া রাজ্যের ব্রাজিলিয়ান আমাজনের গভীরে তানারু আদিবাসী ভূমিতে থাকতেন। বিগত ২৬ বছর ধরে তিনি একা বসবাস করে আসছিলেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোকটি বাহিরের সমাজের সঙ্গে যোগাযোগের সমস্ত প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করেছিল। যদিও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ তাকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করতো। এছাড়াও মাঝে মাঝে তার জন্য খাবার সরবরাহ করতো।  

সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, তার গোত্রের বাকি মানুষগুলো ১৯৭০ এর দশক থেকে বেশ কয়েকটি আক্রমণে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। প্রধানত গৃহপালিত পশুপালক ও জমি দখলকারীরা এই আক্রমণগুলো করে। 

সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর ফিওনা ওয়াটসন বলেছেন, বাইরের কেউ এই লোকটির নাম জানতো না। এমনকি তার গোত্র সম্পর্কেও খুব বেশি কিছু জানতো না। তার মৃত্যুর সঙ্গে ব্রাজিলীয় আদিবাসী উপজাতির গণহত্যা সম্পূর্ণ হয়।   

তিনি আরও বলেন, কারণ এটি ছিল একটি গণহত্যা। জমি ও সম্পদের জন্য ক্ষুধার্ত গৃহপালিত পশুপালকদের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি সম্পূর্ণ জনগণকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। 

২৩ আগস্ট ফুনাই কর্মকর্তারা একটি কুঁড়েঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে। তবে কোনো আক্রমণ বা আঘাতের চিহ্ন তার শরীরে পাওয়া যায়নি। তিনি প্রাকৃতিক কারণে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ফুনাই। 

ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ তার দেহের ফরেনসিক পরীক্ষা করবে বলে খবরে বলা হয়েছে। 

 

 

 

 

 

ইত্তেফাক/এসআর