১৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ভোলার বোরহানউদ্দিনের জেলে মিলন খানের। দিন যত যাচ্ছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বাড়ছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। মিলন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নে ৮নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
মিলন খানের স্ত্রী ঝিনু বেগম বলেন, ‘বাউফল উপজেলার মমিন পুর ঘাটের আলম গাজির ফিসিং বোডে মাল্লা হিসেবে সাগরে মাছ ধরতে যান মিলন খান। তাদের বোর্টে ১৩ জন মাঝিমাল্লা ছিলেন। ১৮ আগস্ট সাগরে মাছ ধরা অবস্থায় ঝড়ের কবলে পড়ে ইঞ্জিলচালিত বড় ট্রলার (ফিশিং বোড) ডুবে যায়। ওই ট্রলারের সবাই উদ্ধার হলেও মিলন খানকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার।’
জেলের মেয়ে বলেন, বাবাই ছিল আমাদের সব। বাবাকে ছাড়া আমরা কীভাবে বাঁচবো। বাবা জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন তাও জানি না।
গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম রিয়াজ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কালাম বদ্দার জানান, বড় ট্রলার যোগে (ফিশিং বোড) সাগরে মাছ ধরতে যায় মিলন খান। সেখানে ট্রলারটি ডুবে যায়। তারপর থেকেই মিলন খান নিখোঁজ হয়। গত ১৫ দিনেও তার খোঁজ মেলেনি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলী আহমদ আকন্দ বলেন, ‘আমার এলাকার একজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।’
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ বলেন, ‘বোরহানউদ্দিনে একজন জেলে নিখোঁজ হয়েছেন এটা জানি। তবে তার খোঁজ মেলেনি।’
উল্লেখ্য, ১৭ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে পড়ে। ওই রাতে সাগরে অবস্থানরত জেলেদের নৌকাডুবিসহ অনেক জেলে নিখোঁজ হন। কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধার অভিযানে অনেক জেলে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হন। তবে এখনো পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি মিলনের।
