খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার উপজাতীয় অধ্যুষিত গ্রামে দুর্বৃত্তের গুলিতে অংথোই মারমা ওরফে আগুন (৫২) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে গুইমারার দেওয়ান পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আগুন প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সংগঠক ছিলেন।
এদিকে, এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ ইউপিডিএফের কর্মীরা শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কের ঢাকাইয়া কলোনি নামক স্থানে পোল্ট্রি ফার্মের খাদ্যবাহী একটি মিনি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করেছেন। একই সময়ে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের গুইমারা উপজেলার বাইল্ল্যাছড়ির জোড়াব্রিজ এলাকায় কলাবাহী একটি ট্রাকেও আগুন দেন কর্মীরা। পুলিশ জানায়, গাড়িটি পোল্ট্রি ফার্মের খাদ্য নিয়ে খাগড়াছড়ি যাচ্ছিল।
গুইমারা থানার ওসি মো. রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিন্তলসহ ইউপিডিএফ সংগঠকের মরদেহ উদ্ধার করেছে।’
নিহত অংথোই মারমার বাবার নাম কংহ্লাউ মারমা। তার বাড়ি উপজেলার বুদুংপাড়ায় (যৌথ খামার) বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে গুইমারার দেওয়ান পাড়ায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা অংথোই মারমাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
গুইমারা থানার ওসি মো. রশিদ বলেন, ‘নিহতের লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে মরদেহের পাশেই ৫ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল পাওয়া যায়। লাশের প্রাথমিক সুরতহালে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫টি গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। নিহতের নামে থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছিলেন।’ এ ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা হয়নি বলেও ওসি জানান।
এদিকে, ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে অংথোই মারমা (আগুন) সাংগঠনিক কাজে যাচ্ছিলেন। এসময় দেওয়ান পাড়া নামক স্থানে আগে থেকে ওতপেতে থাকা প্রতিপক্ষ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
