শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বগুড়ার গুদামে পাঠানো সারের সাত ট্রাক ভেজাল!

  • বাকি ১০ ট্রাকের পরীক্ষার ফলাফল আসেনি 
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০০

চট্টগ্রাম থেকে বগুড়ার বাফা গুদামে পাঠানো টিএসপি সারে ভেজাল থাকার যে আশঙ্কা বগুড়া জেলা প্রশাসক করেছিলেন তা সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২৭ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে আসা সাতটি ট্রাকের ৯৮ মেট্রিক টন সার ল্যাবে রাসায়নিক পরীক্ষায় ভেজাল বলে প্রমাণ মিলেছে। রাজশাহী মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক রাতেই এ খবরের সত্যতার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরে আরো ১০টি ট্রাক থেকে যে নমুনা চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল তার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।

ভেজাল পাওয়ার ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১২) বগুড়ার সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র‍্যাবের একটি দল শহরের পুরান বগুড়া এলাকায় বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার (বাফা) গুদাম থেকে তাদের আটক করে।

ভেজাল সন্দেহে বগুড়ায় ১৭ ট্রাক টিএসপি সার বাফা বগুড়া গুদামে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরে সারগুলো পরীক্ষার জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন চট্রগ্রামের পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্সের উপপ্রধান রসায়নবিদ রেজাউল হক, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আউয়াল হোসেন।

বগুড়া জেলা সার ও বীজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, বাফার গুদামে খালাসের আগে আটকে দেওয়া ৪ হাজার ৭৬০ বস্তা বা ২৩৮ মেট্রিক টন সারের মধ্যে প্রথম দফায় ৭ ট্রাকে ৯৮ মেট্রিক টন সারের চালান এসেছিল। নকল সন্দেহে এই সার খালাস আটকে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সারগুলো বগুড়ায় আনার পথে ষড়যন্ত্র করে ভেজাল সারের সঙ্গে বদল করা হয়েছে—এমন অভিযোগ আমরা একটি সূত্র থেকে পাই। তার পরপরই সারগুলো গুদামে না ঢোকানোর জন্য বিসিআইসির স্থানীয় ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ল্যাব টেস্টের বিষয়ে রাজশাহী মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, সারগুলোতে ভেজাল মেশানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টিএসপি সারে মোট ফসফেট ওজন ভিত্তিক ৪৬ শতাংশ হবে। আর পানিতে দ্রবণীয় অবস্থায় ৪০ শতাংশ। গবেষণাগারে পাঠানো টিএসপি সার পরীক্ষায় মোট ফসফেটের ওজন ভিত্তিক পাওয়া গেছে ২৩ থেকে ৩৩ শতাংশ। আর পানিতে দ্রবণীয় অবস্থায় ফসফেট পাওয়া গেছে ১৮ থেকে ২৭ শতাংশ।

ভালো সার হাতবদল হয়েছে সাভারে: র‍্যাব

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে বগুড়ার বাফা গুদামে আসার পথে সাভারে যাত্রা বিরতিতে ভেজাল সারের সঙ্গে ভালো সার বদল করেছে চক্রটি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে র‍্যাব-১২ বগুড়া কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১২ বগুড়া অফিসের কোম্পানি কমান্ডার তৌহিদুল মবিন খান। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২৭ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে ১২ ট্রাক সার বগুড়ায় বিতরণের উদ্দেশ্য রওনা হয়। সারগুলো ২৯ আগস্ট বগুড়ার গুদামে এসে পৌঁছে। তবে এর আগে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে চক্রটি আসল সার সরিয়ে ঐ সাত ট্রাকে ভেজাল সার তুলে দেয়। দেশের শীর্ষ একটি গোয়েন্দা সংস্থা পতেঙ্গা থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি তাদের নজরদারিতে রাখে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ ও যাবতীয় প্রমাণ র?্যাবকে জানায় তারা। এরপরে বগুড়া জেলা প্রশাসনকে সার খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করতে অনুরোধ করা হয়।

তিনি আরো জানান, চট্রগ্রামের দেওয়ান হাটের এমএইচআর এন্টারপ্রাইজ নামের পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই সারগুলো বিতরণ করা হচ্ছিল। গোয়ান্দা তথ্যে ও ভিডিও ফুটেজের সূত্র অনুযায়ী, ভেজাল প্রমাণিত হওয়া সাত ট্রাকের ১৩ জন শ্রমিক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা সবাই এমএইচআর প্রতিষ্ঠানের হয়েই কাজ করেন। এজন্য আটক ১৩ জনসহ ঐ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম টিএসপি সার কারখানার কর্মকর্তারা এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি