এশিয়া কাপ থেকে কেন এমন বিদায়?

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪০

বাংলাদেশের ক্রিকেট, একটা আকাশ। এখানে সাফল্যের রোদ উঠে, বেদনার জল জমে। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গত বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের মাতম থামছে না।

হারের ময়নাতদন্তে উঠে আসছে অতিরিক্ত ১৭ রান, ক্যাচ মিসের ভুল। শ্বাসরোধী লড়াইয়ের পর মরুর মরীচিকার মতোই যেন হারিয়ে গেছে জয়ের স্বপ্ন। নিছক একটা হারই শুধু নয়, এই পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।

দুই ম্যাচেই লড়াকু চেহারার প্রতিচ্ছবি ভেসে থাকলেও দিনশেষে টি-২০ তে হারের বৃত্ত ভাঙতে পারেনি টাইগাররা। সর্বশেষ সাত ম্যাচে মাত্র ১ জয়।

সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নতুন শুরুর আওয়াজ উঠেছিল এশিয়া কাপের আগে। বিসিবিও দিন বদলের গান শুনিয়েছে। 

কিন্তু সেই মিশনে কতটা সফলতা মিলেছে? বিকেএসপির উপদেষ্টা, দেশের বিখ্যাত কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম গতকাল বলছেন, খেলার ধরনে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পারফরম না করা সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিদায় বলে দেওয়া যৌক্তিক মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে তরুণদের আরো সুযোগ দেওয়াটা সময়ের দাবি। দেখভাল করার নামে কোনো টুর্নামেন্ট, সিরিজে বোর্ড কর্তাদের দলভারী করার প্রবণতা থেকে সরে আসা প্রয়োজন। ফাহিমের মতে, কোচ ও অধিনায়ক যত বেশি স্বাধীন হবেন, ততই সফলতা বাড়বে।

শ্রীলঙ্কা জিতেনি, বাংলাদেশ হেরেছে

শ্রীলঙ্কার দাপটের চেয়ে নিজেদের ভুলেই ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। সাকিব-মুশফিকদের গুরু বলেছেন, ‘এখানে মনে হয় বিপক্ষ দলের ভালো খেলার চেয়ে কিছু কিছু জায়গায় আমরা খুব খারাপ খেলেছি। ওয়াইড, নো বল, অতিরিক্ত থেকে ১৭ রান, এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ ফেলা, দুঃখজনকভাবে রিভিউটা না নিতে পারা। আমাদের হাতেই সুযোগগুলো ছিল কিন্তু। এজন্যই বলবো, শ্রীলঙ্কা ম্যাচ জিতে গেছে, তা নয়, আমরা ম্যাচ হেরে গেছি।’

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়, এটাই কি প্রত্যাশিত রেজাল্ট?

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় সাকিব বাহিনীকে ঘিরে এশিয়া কাপে উচ্চাশা ছিল না কারোই। তারপরও সুপার ফোরের আগে টানা দুই ম্যাচ হেরে টাইগারদের বিদায়টা হূদয় কাঁপিয়েছে। গতকাল ফাহিম বলেছেন, ‘এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে তো আমরা সবাই অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম, আমরা কেমন খেলব। কারণ এর আগে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যা খেলেছি, তাতে বড় আশা করার মতো কোনো ব্যাপার ছিল না।’

সাকিবের নেতৃত্বে ফিরেছে ইতিবাচক মনোভাব

অভিজ্ঞ এই কোচের দৃষ্টিতে, বাংলাদেশের খেলার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেছেন, ‘দলের খেলার ধরনের মধ্যে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ১২৭ রান করেও আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে লড়াই করেছি। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখেছি। এটা মনে হয় একটু সাহস দিয়েছিল শ্রীলঙ্কার সঙ্গে।’

ফরমহীন সিনিয়রদের জায়গা নেই

দুই সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকরা দলের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ, ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ মিস করে দলের পিছিয়ে পড়ার কারণ হচ্ছেন তারা। পারফর্ম না করলে সিনিয়রদের ধরে রাখার পক্ষে নন ফাহিম, ‘আমার তাই মনে হয়। একটা সময় ছিল যে টি-২০ তে আমরা শক্তিশালী দল ছিলাম না। আমাদের হাতে ঐ রকম খেলোয়াড় নাই বলে, যারা এতদিন খেলে এসেছে তারা খেলছিল। এখন আস্তে আস্তে আমাদের হাতে খেলোয়াড় আসছে।’

সামর্থ্যের বার্তা দিচ্ছে তরুণরা

লোয়ার অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে পাঠানো মেহেদী হাসান মিরাজ, মিডল অর্ডারে আফিফ হোসেন দলের হাল ধরছেন, পারফরম করছেন। তারা এখন দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলে মনে করেন বিকেএসপির এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘তরুণরা মনে হয় বারবার বার্তা দিচ্ছে, ওরা আরো বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত হয়ে গেছে এখন। এখন সময় আসছে আরো নতুনদের জায়গা করে দেওয়ার। ওরা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, আমরা এখন যোগ্যতা অর্জন করেছি দায়িত্ব নিতে।’

বোর্ডের প্রভাব কমানো উচিত

শুধু টি-২০ নয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলের পারফরম্যান্সে উন্নতির জন্য বোর্ড কর্তাদের অতিকথন, দলের পিছু পিছু ছোঁটা বন্ধ করা প্রয়োজন। দলকে স্বাধীনতা দেওয়ার প্রসঙ্গে ফাহিম বলেন, ‘হস্তক্ষেপ যত কম হবে, তত ভালো খেলবে। এবার আমরা ভালো খেলতে পারার বড় একটা কারণ সাকিবের নেতৃত্ব। সাকিব হয়তো খেলোয়াড়দের কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে এটা নিশ্চিত করেছে। যত কথা হবে, হস্তক্ষেপ হবে তত খারাপ হবে পারফরম্যান্স।

ইত্তেফাক/এএইচপি