‘বর্তমান হিন্দু আইন নারীর স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করছে’

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৩৩

বর্তমান হিন্দু সমাজের আইন ব্যবস্থাকে খুবই নিকৃষ্ট উল্লেখ করে দ্রুতই হিন্দু আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদ। গতকাল শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘হিন্দু আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এই আলোচনাসভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট ডিভিশনের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পুলক ঘটকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সংস্কার পরিষদের সহসভাপতি সুভাস সাহা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ হিন্দু সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান হিন্দু সমাজে নারীদের বিভিন্ন ন্যক্কারজনক সামাজিক-সাংস্কৃতিক আইনের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। একজন নারী তার বাবার বাড়ির সম্পত্তির কোনো অংশ পায় না, স্বামী মারা গেলে বিবাহ করতে পারে না, স্বামী যেমনই হোক তার সঙ্গে সংসার করতেই হবে। অর্থাৎ নারীর সব স্বাধীনতাকে বন্দি করা হয়েছে। আমরা এই শিকল পরা নারী সমাজ দেখতে চাই না।

বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের সহসভাপতি সুভাস সাহা বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে নারী ও পুরুষের জন্য সম্পত্তির সমান অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া হিন্দু নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পুলক ঘটক বলেন, বর্তমান হিন্দু আইন একাধারে বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের সঙ্গে এবং সিডও সনদসহ নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক সকল সনদ ও প্রটোকলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথও বলেন, হিন্দু সমাজে প্রচলিত আইনগুলো আমাদের বর্তমান সমাজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একটা সমাজে একজন অপরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় অথচ লিখিতভাবে কিছু হয় না, যা একমাত্র মান্ধাতার আমল ছাড়া বর্তমানে কল্পনা করা যায় না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের এই সংকটগুলো নিয়ে সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠরা কথা না বলায় কোনো সমাধান হয়নি। এই সমস্যা সমাধানে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ইত্তেফাক/ইআ