দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ার শেষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এমনিতেও টি-টোয়েন্টিতে সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছিলো না মুশফিকের। মাঝে বিরতি দিয়ে ফিরেছিলেন চলমান এশিয়া কাপে, তবে মুশফিকের ব্যাট কথা বলেনি সেখানেও। টানা ব্যর্থতায় জর্জরিত মুশফিককে সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে অনেক অবশেষে সব আলোচনা সমালোচনার ইতি টেনে আজ (রবিবার) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান মি. ডিপেন্ডেবল মুশি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগসহ (বিপিএল) অন্য সকল ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে টি-টোয়েন্টি খেলা চালিয়ে যাবেন বলেও জানা টাইগারদের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট আর ওয়ানডে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি এমন কথাও জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা অবসর নেয়ার সিদ্ধান্তের সেই পোস্টে মুশফিক বলেন, ‘সবাইকে সালাম এবং শুভেচ্ছা। দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারের যাত্রায় আমি আপনাদের সবাইকে পাশে পেয়েছি। ভালো এবং খারাপ দুই সময়েই আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থন আমার প্রেরণা। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেকে আজ আমি অবসর নিচ্ছি। তবে, বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলা চালিয়ে যাব। আশা করছি এই দুই ফরম্যাটে আমি আরও কিছু নিয়ে আসতে পারব দেশের জন্য। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগসহ (বিপিএল) অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আমি আমার খেলা চালিয়ে যাব টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।
আলহামদুলিল্লাহ। সবার নিকট কৃতজ্ঞতা। ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।’
ওয়ানডে আর টেস্টে দেশের জন্য আরও কিছু নিয়ে আসতে পারবেন তিনি এমনটিও বলা হয়েছে মুশফিকের সেই পোস্টে। জানানো হয়, এই দুই ফরম্যাটে আরও বেশি মনোযোগী হতেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন মুশফিক। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে খেলেছেন ১০২টি ম্যাচ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৬ ফিফটির সাথে মুশফিকের সংগ্রহ ১৫০০ রান। ১১৫.০৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা মুশফিকের গড় ছিলো ১৯.৪৮। এছাড়া উইকেটের পেছেনে দাঁড়িয়ে মুশফিক নিয়েছেন ৪২টি ক্যাচ আর স্ট্যাম্পিং করেছেন ৩০টি।
