মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

স্মার্টফোন ফাস্ট করবেন যেভাবে

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:২৩

স্মার্টফোনের বাজারে এখন যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে, সে সময় অনেকেই আর নতুন ফোন কেনার ব্যাপারে আগ্রহী হতে পারছেন না। প্রতি বছরই নতুন মডেলের, আরও উন্নত প্রসেসর নিয়ে বাজারে আসছে স্মার্টফোন। এমনকি ফোনের পেছনে বিনিয়োগের পরিমাণটাও এখন কম নয়। স্মার্টফোনের পেছনে টাকা খরচ করার পর অনেকেই আশা করেন ফোন দীর্ঘস্থায়ী হবে।  

দামি ফোনগুলোতে সচরাচর বড় সমস্যা দেখা যায় না। কোম্পানিগুলো সচরাচর ফ্ল্যাগশিপ ফোন বানানোর সময় সফটওয়ার ও হার্ডওয়ারে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের ওতটা সমস্যা হয় না। কিন্তু যারা কম দামে কিংবা মিডরেঞ্জে ফোন কেনেন, তাদেরই যত অসুবিধে। অনেকে তো পুরনো স্মার্টফোনও কিনে নেন। অনেক সময় অনেক ছোট ছোট কারণে এসব ফোন ধীরগতির হয়ে যায়। ইউটিউবে ‘মিস্টার হুজ দ্য বস’ নামে ইউটিউব চ্যানেলের উপস্থাপক অরুন কদিন আগেই তার একটি ভিডিওতে জানান, ফ্ল্যাগশিপ বানানোর সময় কোম্পানিগুলো মিডরেঞ্জে কিছু সমস্যা দিয়েই রাখে। এতে ফ্ল্যাগশিপ ফোন বিক্রি করতে পারে তারা। তবে আপনার জন্যে ফ্ল্যাগশিপ মডেল অনেক ভালো হলেও টাকার অভাবে তা সম্ভব নয়। সেজন্যে আপনার জন্যে রইলো কিছু টিপস, যা দিয়ে সহজেই ফোনকে কিছুটা ইন্টার‍্যাক্টিভ করা সহজ হবে: 

আজকাল প্রতিটি ফোন কোম্পানিই নিজস্ব ইন্টারফেস ব্যবহার করে

সিস্টেম আপডেট করুন  
আজকাল প্রতিটি ফোন কোম্পানিই নিজস্ব ইন্টারফেস ব্যবহার করে। সময়ে সময়ে তারা সিস্টেম আপডেট দেয়, নতুন ফিচার যেন ইউজাররা উপভোগ করতে পারেন। তাই ফোন স্লো হয়ে গেলে সিস্টেম আপডেট দিয়ে দেখুন। অবশ্য বেশ কদিন ধরে কিছু কোম্পানির ফোনে সিস্টেম আপডেট দেওয়ার পর নানা সমস্যা পাওয়া গেছে। তাই আগে ফোরামগুলোতে গিয়ে আপডেটটির রিভিউ জেনে নিন। তাতে নিরাপদেই আপডেট দিতে পারবেন। যদি রিভিউতে বাগের তথ্য পান, তাহলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। 

ব্যাটারির যত্নে মনোযোগ দিন    
মোবাইল চালানোর সময় সফটওয়ার যতটা জরুরি ব্যাটারিও ততটাই জরুরি। বিশেষত মোবাইল চার্জ দেওয়ার সময় ফোন চালাবেন না। এমনকি ফোন সব সময় ফুল চার্জ করা অথবা একেবারে চার্জ শেষ করা ঠিক না। ব্যাটারি উৎপাদনের সময় ঠিক কতবার ফুল চার্জ হওয়ার সক্ষমতা রাখে তা নির্ধারিত থাকে। ঘন ঘন ফুল চার্জ দিলে ব্যাটারির ক্ষতি হয়। সারারাত ফোন চার্জে রাখবেন না। সচরাচর চার্জ ৯০ শতাংশ হলেই চার্জ থেকে খুলে নিন ও ২০ শতাংশে কমে এলে চার্জে দিন। বাইরে থাকলে পাওয়ার ব্যাংক রাখুন।  

ব্লোটওয়ার সরান 
মোবাইল রিসেট দেওয়ার পর কিংবা নতুন কেনার পর সবসময় কিছু অ্যাপ থাকে যা আপনার কাজে আসে না। এদের বলা হয় ব্লোটওয়ার। মূলত স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত আয়ের জন্যে কিছু গেমস বা অতিরিক্ত অ্যাপ দিয়ে থাকে। কিছু কিছু অ্যাপ আন-ইনস্টল করা যায় আবার কিছু কিছু অ্যাপ আন-ইনস্টল করাই যায় না। যেগুলো আন-ইনস্টল করা যায়, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলুন। এমনকি মোবাইলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ রাখবেনই না। 

ঘন ঘন ফুল চার্জ দিলে ব্যাটারির ক্ষতি হয়

সিস্টেম স্টোরেজ ফুল করবেন না
আজকাল মোবাইলের সিস্টেম স্টোরেজ ব্যবহার করেন অনেকে। কারণ ফোনের সিস্টেম স্টোরেজের জায়গাও নেহাৎ কম থাকে না। তবে স্টোরেজ বেশি হলেও আজকাল ফাইলও বেশ বড় হয়। দেখা যায় দ্রুত সিস্টেম স্টোরেজ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় সিস্টেম স্টোরেজ কখনই ৯০ শতাংশের বেশি ভরবেন না। বাজারে এসডি কার্ড পাওয়া যায় তা ব্যবহার করতে পারেন। তবে এসডি কার্ডের ক্ষেত্রে ক্লাস টেন কি না, তা দেখে নিন। নকল বা সাধারণ এসডি কার্ড ফোন আরও স্লো করে দেয়।  

অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশ সাফ করুন
আপনার ফোনে ক্যাশ ফাইল জমে খেয়াল করবেন হয়তো। অনেকে নামটিই শুনলেও কোথায় আছে জানেন না। মূলত ক্যাশ ফাইল হলো ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ফোনে ব্রাউজার থেকে জমা হওয়া কিছু ফাইল। শুধু ডেভেলপাররাই এই ফাইলগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে পারে। আপনার তেমন কাজে আসে না। প্রায় প্রতিটি অ্যাপ বিশেষত গুগলের ইউটিউব, জিমেইল, ফেসবুক ও ভারি গেমের অ্যাপ ক্যাশ জমা করে। এসব অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশ ফাইল আপনার ফোনকে স্লো বানিয়ে দেয়। সিস্টেম স্টোরেজে গেলে সহজেই এই ক্যাশ ফাইল দূর করতে পারবেন। অনেকে অবশ্য অ্যাপের মাধ্যমেই এই কাজ করেন। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, সিস্টেম অ্যাপ ব্যবহারেই ক্যাশ সরানো উচিত।  

এপ্লিকেশনকে যত্রযত্র পারমিশন দেবেন না
ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার পরই নানা পারমিশন চেয়ে বসে। এতে আপনার প্রাইভেসি যেমন ঝুঁকির মধ্যে থাকে, তেমনই ব্যাটারির চার্জও কমে যায়। এছাড়া ফোন হয়ে যায় স্লো। কারণ সিস্টেম ডাটা এই পারমিশনগুলো সবসময় দেয় বলে অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে। সৌভাগ্যের কথা হলো এন্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণে আপনি যখন অ্যাপ ব্যবহার করবেন, তখনই পারমিশন কার্যকর হবে, এমন সেটিং চালু আছে। অ্যাপ ইনস্টল করে তাই ভেবেচিন্তে পার্মিশন দিন। 

বিজ্ঞাপন দেয় এমন অ্যাপ রাখবেন না

সবসময় ডাটা ও ওয়াই ফাই চালু রাখবেন না
ফোনে সবসময় ডাটা বা ওয়াইফাই চালু রাখবেন না। যখন প্রয়োজন হবে তখনই এদের ব্যবহার করুন। এছাড়াও ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা নিষ্ক্রিয় রাখুন। তাতে ফোন স্লো হবে না।

বিজ্ঞাপন দেয় এমন অ্যাপ রাখবেন না 
আজকাল কমদামি ফোন কিংবা মিডরেঞ্জ অনেক কোম্পানির ফোনে বিজ্ঞাপনে অতিষ্ঠ হওয়ার জো। রুচি ও মানের দিক থেকে যেমন এই বিজ্ঞাপনগুলো নিম্নমানের তেমনি ফোন স্লো করার পেছনেও এদের হাত আছে। অবশ্য স্মার্টফোন কোম্পানির দেওয়া রমে বিজ্ঞাপন পুরোপুরি থামানো সম্ভব না হলেও অ্যাপের কিছু পার্মিশন বন্ধ করে বিজ্ঞাপন থেকে কিছুটা রেহাই মিলবে। এছাড়াও এমন অ্যাপ ব্যবহার করবেন না যেগুলো প্রচুর বিজ্ঞাপন দেখায়। যদি ফোনের রমে সমস্যা থেকেই থাকে, তাহলে কাস্টম রম বা স্টক এন্ড্রয়েড ব্যবহার করুন।  

ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট
ফোনের অবস্থা যদি একদমই বাজে হয়, তাহলে ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট ছাড়া উপায় নেই। এতে ফোন আবার প্রাথমিক অবস্থায় যেমন ছিল তেমন হয়ে যাবে। ফ্যাক্টরি রিসেট দেওয়ার পর আমাদের দেওয়া টিপসগুলো মেনে চললে আপনার ফোন নিয়ে বড় সমস্যায় পড়বেন না। স্মার্টফোন স্লো হওয়ার জন্যে অনেকাংশে কোম্পানির সফটওয়ার দায়ী হলেও আপনাকে কিছুটা সচেতন হয়েই চালাতে হবে। 

ইত্তেফাক/এআই