পজিটিভ বাংলাদেশ

আপডেট : ১২ জুন ২০১৯, ২১:৫৫

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নাম। আয়তনে দেশটি ছোট হলেও এর ইতিহাস-ঐতিহ্যে বিশ্বের বৃহত্ রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে কম নয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া এই দেশটি বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কাছে উন্নয়নের মডেল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গত এক দশকে এই দেশটি যে পরিমাণ উন্নত হয়েছে তা বিশ্বের মুষ্টিমেয় দেশ ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই আজকে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মডেল। এখানকার মানুষ সব সময় তাদের নিজেদের সংস্কৃতি চর্চা করে। এ অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হয়ে এখানে শাসন করতে এসেছিল আর্য, তুর্কি, আফগান, আরব, ব্রিটিশসহ নানা জাতি ও ধর্মের ব্যক্তিরা। তারা ব্যবসায়ী উদ্দেশে এদেশে আসলেও নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশের মায়ায় দেশের শাসন ক্ষমতা পেতে মরিয়া হয়ে অনেকে শাসন ক্ষমতা দখল করে নেয়। ব্রিটিশরা এদেশের স্বাধীনচেতা মানুষকে দাসের জাতিতে পরিণত করতে চেয়েছিল। ব্রিটিশরা দুইশ বছর এদেশ শাসন করেছে। তাদের শাসনকালের শুরুতে এ অঞ্চলের যাদেরকে দরিদ্র কল্পনাও করা যেত না, শাসনের একশ বছর পর তারা হতদরিদ্রে পরিণত হয়েছিল। তাদের অবস্থা এতোটাই শোচনীয় হয়ে পড়ে তারা যে এক সময় ধনী ছিল এমন কল্পনা করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতো কিছুর পরও বাঙালি জাতির কঠিন মনোবলের কারণে  ৪৭, ৫২, ৬৬ পেরিয়ে ১৯৭১ সালে নয় মাস একটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যদিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। ইতিবাচক দৃষ্টিতে তাকালে এদেশের সুদূরপ্রসারী আলোকিত ভবিষ্যত্ রয়েছে। তবে আমাদেরকে ব্রিটিশদের শেখানো সেই দাসত্ব নীতি পরিহার করতে হবে। অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকা অভ্যাস পরিহার করে নিজেদের যা আছে তাই নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন ‘তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক’ এটি ভাবকে সামনে রেখে আমাদের সকল কাজ করে যেতে হবে। ‘বিশ্ব ব্যাংক’ ঋণ দিল কি দিল না সেদিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। আমাদের টাকা দিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো। আজকে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মা সেতু করবে, তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। দরকার শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার। একদিন এদেশের মানুষ যে হাতিরঝিল প্রকল্পের কথা চিন্তাই করেনি। আজ বাংলাদেশ সরকার সেই ‘হাতিরঝিল’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এতে দেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে ক্রমধাপে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে তাতে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহের অবকাশ নেই। কোনো প্রকল্পকেই নেতিবাচকভাবে দেখা যাবে না। কেননা নেতিবাচকতা মানুষকে উন্নতির পথে বাধা প্রদান করা ছাড়া আর কিছু করতে পারে না।

আমাদের সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। কেননা ইতিবাচক চিন্তা সমাজ পরিবর্তনে খুবই দরকারি। সমাজের উন্নয়ন চাইলে পরিস্থিতি যেমনই থাকুক সব সময় ইতিবাচক চিন্তার কোনো বিকল্প নেই। আসুন, আমরা আমাদের সকল কাজে ইতিবাচক চিন্তা করি, দেশের উন্নয়নে নিজের অবস্থান থেকে অবদান রাখি।

n  লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়