যুক্তরাজ্যের তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ৪৭ বছর বয়সী ট্রাস। বেশ কিছু কেলেঙ্কারির কারণে গত জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন বরিস জনসন। এরপরই কনজারভেটিভ দলের নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শুক্রবার পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটার ছিলেন কনজারভেটিভ দলের প্রায় দুই লাখ সদস্য। ভোটে ট্রাস সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাককে পরাজিত করেন। সুনাক জিততে পারলে তিনি ব্রিটেনের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী হতেন। মোট ভোট পড়েছে ৮২.৬ শতাংশ। ট্রাস পেয়েছেন ৮১,৩২৬ ভোট। সুনাক পেয়েছেন ৬০,৩৯৯টি।
লিজ ট্রাস ও ৪২ বছর বয়সী সুনাক উভয়ই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। মূল্যস্ফীতির হাত থেকে সাধারণ নাগরিকদের রক্ষা এবং কনজারভেটিভ দলের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনা ট্রাসের অন্যতম দুটি মূল কাজ হতে চলেছে।
গত জুলাই মাসে ব্রিটেনে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশে উপরে উঠে গিয়েছিল। ট্রাসের পরিচয় বামপন্থি পরিবারে জন্ম নেয়া ট্রাস প্রথমে লিবারেল ডেমোক্র্যাট ছিলেন। তবে ২০১০ সালে তিনি কনজারভেটিভ পার্টি থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ট্রাস ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ছিলেন। তবে ব্রিটিশরা ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিলে তিনি দ্রুতই ব্রেক্সিটের কট্টর সমর্থক হয়ে উঠেছিলেন। এরপর ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন লিজ ট্রাসকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে গড়া প্রতিনিধি দলের প্রধান করেছিলেন।
গতবছর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ট্রাস। লিজ ট্রাস যেসব পোশাক পরেন এবং ছবি তোলার জন্য যেসব জায়গা বেছে নেন, যেমন এস্তোনিয়ায় গিয়ে ট্যাঙ্কে এবং মস্কোয় গিয়ে পশমের টুপি পরে ছবি তোলা, ইত্যাদি কারণে অনেকে তাকে প্রথম নারী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গে তুলনা করেন। ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি রাশিয়ার কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
