বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এনবিআরের সমীক্ষা

দেশে পণ্য খালাসে বেশি সময় লাগে সমুদ্রবন্দরে

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:০২

দেশের প্রধান বন্দরগুলো থেকে আমদানি পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে আনতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে। জাতীয় রাজস্ব বার্ড (এনবিআর) পরিচালিত ‘টাইম রিলিজ স্টাডি ২০২২’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় এই পরামর্শ দেওয়া হয়। সোমবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মু. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে এই সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ড শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সুজানি ম্যুলার।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার (ডাব্লিউসিও) দিকনির্দেশনায় এবং সুইজারল্যান্ড সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা এই সমীক্ষা পরিচালনা করে এনবিআর। এই সমীক্ষায় মূলত বিভিন্ন আমদানি পণ্য খালাসে বন্দরকেন্দ্রিক কাস্টমস সেবা পেতে কত সময় লাগে তা সমীক্ষা পরিচালনা করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে আমদানি পণ্য খালাস করতে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হয় দেশের সমুদ্রবন্দরে। পণ্য খালাস হতে গড়ে সময় লাগে ১১ দিন ৬ ঘণ্টা ২৩ মিনিট। স্থলবন্দরে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে সময় লাগে ১০ দিন ৮ ঘণ্টা ১১ মিনিট ও বিমানবন্দরে সময় লাগে ৭ দিন ১১ ঘণ্টা ১৯ মিনিট। আমদানি পণ্য খালাসে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ১২ থেকে ২০ শতাংশ সময় ব্যয় করে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ (সিসিএইচ), বেনাপোল কাস্টম হাউজ (বিসিএইচ) ও ঢাকা কাস্টম হাউজ (ডিসিএইচ) একটি পণ্যের সামগ্রিক রিলিজ প্রক্রিয়ায় মাত্র সাত-আট শতাংশ সময় ব্যয় করে। যন্ত্রপাতির ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া তিনটি কাস্টম হাউজই ১২ দিনের বেশি সময় নেয়।

প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে আনতে কাস্টম সেবার ধাপ কমিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। বিশেষ করে সকল ডকুমেন্টে অনলাইনে দাখিল ও অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করলে অধিক সুবিধা পাওয়া যাবে। সমীক্ষায় বেনাপোল বন্দরের সময় কমিয়ে আনতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু এবং আধুনিক লোড আনলোডিং করার যন্ত্রপাতি স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। আর ঢাকা কাস্টমস হাউজের বিমানের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ জনবল বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সমীক্ষায় উঠে আসা সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশের উন্নয়শীল দেশের কাতারে গিয়ে টিকে থাকা সহজ হবে। তাই আমরা এ সমস্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে চাই। এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, সমাধানের জন্য সমস্যাগুলোকে ভেতর থেকে চিহ্নিত করা দরকার। তাহলে এনবিআরের পক্ষে সমাধানের সুবিধাজনক পথ বের করা যাবে।

 

ইত্তেফাক/ইআ