নারীর জীবনের প্রত্যেকটি পর্যায়ের মধ্যে সুন্দরতম একটি পর্যায় গর্ভাবস্থা। গর্ভাবস্থায় নারীদের বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। তাই সাধারণ সময়ের মতো সবধরনের কাজে আপনি অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এসময় গর্ভবতী মাকে মেনে নিতে হবে কিছু বিধিনিষেধ এবং সঙ্গে মেনে চলতে হবে কিছু নতুন নিয়ম।
গর্ভবতী নারীদের ওপর সাধারণত মানসিক চাপও একটু বেশি থাকে। আমাদের দেশে একধরনের ট্যাবু আছে, যার কারণে সাধারণত নারীদের একঘরে করে দেওয়া হয়। বলা হয়, এ সময় শুধু বাচ্চার জন্য বেশি করে, খাবার দাবার আর বিশ্রামের প্রয়োজন। কিন্তু একজন গর্ভবতী নারীর এ সময়টাতে থাকা উচিত উৎফুল্ল ও প্রাণবন্ত। আর এক্ষেত্রে পোশাক ও সাজগোজ অনেকটাই সাহায্য করতে পারে। সাজগোজ বলতে ভারি মেকআপ নয় নিজের যত্ন ও নিজেকে পরিপাটি রাখাকে বোঝানো হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই এ সময় নানান শারীরিক পরিবর্তন ঘটে এ সময়। ত্বকের কোনো অংশ কালো হয়ে যাওয়া কিংবা চিরে বা ফেটে দাগ সৃষ্টি হওয়ার মতো সমস্যায় কমবেশি সব অন্তঃসত্ত্বা নারীই পড়েন। তবে প্রথমত ঘাবড়ে না গিয়ে এসব সমস্যাকে স্বাভাবিক মনে করতে হবে। তারপর নিজের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে আগে যে সমস্যায় সবাই পড়ে, তা হলো নিজের মানসিকতা স্থির করার সমস্যা। নিজেকে স্থির করতে না পারলে কোনো কিছু করাই সম্ভব নয়। যেভাবে এ সময় ত্বকের যত্ন নেবেন:
মুখের ত্বকের যত্ন
নিয়মিত মুখের ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার স্ক্রাবিং করতে পারেন। বাড়িতে স্ক্রাব তৈরি করতে ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে আধা কাপ তরল দুধ ও ১ চা-চামচ মধু মেশান। চাইলে মাসে ২ বার পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করতে পারেন।
গলার কালচে ভাব দূর করতে করণীয়
এসময় গলার কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। এ কালচে ভাব কমাতে বাড়িতেই মাস্ক তৈরি করতে পারেন। ২ টেবিল চামচ টকদই, ১ টেবিল চামচ মসুর ডালের বেসন ও ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করা যায়। সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার এভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
হাত-পায়ের আলাদা যত্ন
বাড়িতে হাত ও পায়ে স্ক্রাবিং করতে পারেন। চাইলে পার্লারে গিয়ে ফুট ম্যাসাজ করিয়ে নিতে পারেন। ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করানো যেতে পারে। আপনার সুযোগ এবং শরীরের অবস্থা বুঝে প্রতিমাসে একবার এসব সেবা নিতে পারেন।
ত্বক পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ক্লিনজার ব্যবহার করুন। স্ক্রাবার দিয়েও নিয়মিতভাবে ত্বক পরিষ্কার করুন। ত্বক মসৃণ রাখতে ময়শ্চারাইজার ক্রিম লাগান। পানি শরীরের দূষিত পদার্থকে বাইরে বের করে দেয়, ত্বককে পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এ সময় ত্বক খুব সংবেদনশীল হয়, তাই বাইরে গেলে অথবা রান্না করার সময় সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। গর্ভধারণের সময়ের দাগগুলো দূর করতে নিয়মিত অলিভওয়েল ব্যবহার করুন। শরীর এবং মন ভালো রাখতে মাঝে মাঝে বাইরে ঘুরতে যান। হালকা কিছু ব্যায়াম করুন। পুষ্টিকর খাবার খান। চেষ্টা করুন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমাতে।
সতর্কতা
এসময়ে কিছু সতর্কতাও মানতে হবে। যেমন, বিউটি পার্লারে যেসব সেবা নিতে আপনাকে উপুড় হতে হবে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন। বাড়িতে নিজে নিজে পায়ের যত্ন নিতে গিয়েও উপুড় হতে হয়। তাই বাড়িতে অন্য কারও সাহায্য নিন বা এই সেবা নিন পার্লারে। দীর্ঘ সময় বসে থেকে কোনো সেবা নিবেন না।
অধিকাংশ গর্ভবতী মায়ের মুখ ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়, ফলে মুখে ব্রণ হয়, ত্বকে টান পড়ায় পেট, পায়ের অনেক অংশ ফেটে যায়। মুখে, গলায় ও ঘাড়ে কালো দাগ হতে পারে। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর মায়েরা হয়ে যান আরও ব্যস্ত। দিন-রাত এক করে সন্তান-সংসার সামলে উঠতেই হিমশিম খান তারা।
বেশিরভাগ শিশুই রাতে ঠিকমত ঘুমায় না আর মাকেও জেগে থাকতে হয় শিশুর দেখভালের জন্য। রাতের পর রাত জেগে থেকে নতুন মায়ের গর্ভাবস্থায় ত্বকের বসে যাওয়া ছাপগুলো আরও গাঢ় হতে থাকে।
একটা সময় যখন নিজেকে আয়নায় দেখেন, প্রথমে হয়তো চিনতেই পারেন না, সেই সব সময় পরিপাটি হয়ে চলা মেয়েটির এই মলিন চেহারা দেখে। মন খারাপ হয়ে গেল মন খারাপের কিছুই নেই। মানুষটি সেই আপনিই রয়েছেন। প্রয়োজন শুধু সামান্য যত্নের। তাই নতুন মায়েরও থাকতে হবে একটু গোছালোভাবে এবং অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।
শিশুর সঙ্গে নিজের যত্ন নিন, সব সময় হাসিখুশি থাকুন। সুন্দর ও সুস্থ থেকে মাতৃত্ব উপভোগ করুন।
