রায়গঞ্জে বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি পেয়ে কৃষকরা খুশি। প্রায় সপ্তাহ জুড়েই হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মাত্র কয়েকদিনেই গাঢ় সবুজের সমারোহে ভরে গেছে উপজেলার আমন ধানের খেত।
সরেজমিনে গেলে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের বিনোদবাড়ি গ্রামের কৃষক মণিলাল মাহাতো বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় রেপন করা ধানের চারা খরায় হলদে হয়ে গিয়েছিল। জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল। জমিতে পানি না থাকায় সারের উপরি প্রয়োগও করা যায়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে কেউ কেউ জমিতে সেচ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরমধ্যেই গত ৬/৭দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এখন খেতে সার দেওয়া হচ্ছে। গাঢ় সবুজ রঙে মাঠ ভরে গেছে। এখন দেখেই মণ ভরে যায় বলে তিনি জানান।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চকসাত্রা গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম, একই ইউনিয়নের সিমলা গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার, ঘুরকা ইউনিয়নের রয়হাটি দিয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক সোলায়মান হোসেন জানালেন একই ধরণের কথা। অপরদিকে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সেনগাঁতি গ্রামের কৃষক নবাব আলী বলেন তিনি তার চার বিঘা জমির ধান রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে তিনশ টাকা ঘন্টা চুক্তিতে সেচ দিয়েছেন। বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে তার আগাম রোপণ করা ধানের চারা পুড়ে যাচ্ছিল। তার দেখাদেখি আরো কয়েকজন কৃষক তাদের জমিতেও সেচ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ সপ্তাহে মোটামুটি ভাল বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন থাকে যা এখন সদ্য রোপিত ধানের চারার জন্য খুবই প্রয়োজন। একারণে বৃষ্টি পাতের এক সপ্তাহের মধ্যে আমন ধান যথেষ্ট পয়মন্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে শতভাগ রোপা আমন রোপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রায়গঞ্জে আবাদ হয়েছে মোট ১৯হাজার ১৬৫হেক্টর জমি। কোন আপদ বালাই না হলে এবার রোপা আমনের ভাল ফলন হবে।
