‘ওকে আরও বেশি মিস করছি’

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:০৮

১৯৯৩ সালে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু সালমান শাহ’র। রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে তিন বছরে ২৭টি সিনেমায় কাজ করেছিলেন তিনি। অধিকাংশই হয়েছিল ব্যবসা সফল। কিন্তু হঠৎই আকাশ ভেঙে পড়ে চলচ্চিত্র জগতে। ১৯৯৬ সালে ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা যান এই নায়ক। তার মৃত্যুর ২৬ বছর পরেও ভক্তদের মনে সমান উন্মাদনা কাজ করে।

এই নায়কের আবিষ্কারক পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘সালমান যেহেতু শিল্পী সমিতির মানুষ ছিল, সেখান থেকেই তার জন্য আয়োজন থাকছে, যতদূর জানি। এর আগের কমিটি তো প্রোগ্রাম করতে দেয়নি। তাই বলে কি সালমানকে আটকে রাখতে পেরেছে? পারেনি। বরং নিজেই (জায়েদ খানকে ইঙ্গিত করে) বিদায় হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

সালমান শাহ

সোহানের কথায়, ‘সালমান তো আর ফিরে আসবে না। আল্লাহ যেন ওর সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়, ওর আত্মা যেন শান্তিতে থাকে, এই দোয়া করি। দ্বিতীয় কথা হলো, আসলে ওর মতো শিল্পীর এখনও খুব অভাব। দিন যত যাচ্ছে, ওকে আরও বেশি মিস করছি।’

১৯৯৬ সালের এই দিনে ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর রহস্যময় মৃত্যু হয়। সেই রহস্যের জাল ছড়াতে ছড়াতে দিন-মাস-বছর করে দুই যুগ পেরিয়ে যাচ্ছে। তবু ধোঁয়াশা কাটেনি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। সেটার পেছনে পাঁচটি কারণও উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

সালমান শাহ
 
যদিও সে তদন্ত গ্রহণ করেননি সালমান শাহর মা ও ভক্তরা। তাদের দাবি, পরিকল্পিত হত্যার শিকার হয়েছিলেন নায়ক। হত্যা নাকি আত্মহত্যা, এই দোলাচলেই কেটে গেছে ২৬টি বছর।

সালমান শাহর জন্ম মুক্তিযুদ্ধের বছর অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, সিলেটের দড়িয়াপাড়ায়। তার পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। সিনেমার জন্যই তিনি সালমান শাহ নামটি ধারণ করেছিলেন।

সালমান শাহ। ছবি: সংগৃহীত

সালমান শাহ অভিনীত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো, ‘তুমি আমার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘বিচার হবে’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘সুজন সখি’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।

ইত্তেফাক/বিএএফ