দাদির আশা পূরণে নাতির পালকিতে চড়ে বিয়ে

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:১১

অতীতে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বাহন ছিল পালকি। পালকিতে  দূর-দূরান্তের পথে যাতাযাত করত সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকজন। পালকি বাহকদের বেহারা বলা হতো। চার বেহারার  পালকির কথা এখন বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। শিশু-কিশোরদের ছড়া-কবিতার বইয়ে শুধু পালকির কথা ও ছবি চোখে পড়ে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পালকি হারিয়ে গেছে। এখন যাতায়াতের জন্য ব্যবহার হচ্ছে অত্যাধুনিক গাড়ি। তবুও সখের বসে মাঝে মাঝে ব্যবহৃত হচ্ছে পালকি। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে পালকিতে চড়ে একটি বিয়ে হয়েছে।  

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবার্টী ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায়, বর অতীতের সেই পালকিতে চড়ে বিয়ে করতে এসেছেন। রীতিমতো অবাক করে দিয়েছেন কনের গ্রামবাসীকে। হারিয়ে যেতে বসা বাঙালির চিরচেনা ঐতিহ্যের স্মারক পালকিতে বরযাত্রা দেখতে এসময় বিয়েবাড়ি ও আশপাশের সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভিড় করেন উৎসুক জনতা। এই একবিংশ শতাব্দিতে কেউ গাড়ির বদলে পালকিতে চড়ে বিয়ে করতে আসতে পারেন, সেকথা ভেবেই গ্রামের মানুষ দারুণ খুশি। তাই এই বিয়ে বাড়িতে ছিল স্থানীয় উৎসুক মানুষের ভিড়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের চরব্রাক্ষণগাঁতী গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের বড় ছেলে সবুজ ইসলামের সঙ্গে বাগবার্ঢী ইউনিয়নের চকমিরাখোর গ্রামের আব্দুল জলিল শেখের একমাত্র মেয়ে জলি খাতুন বিয়ের অনুষ্ঠানে এই পালকির ব্যবস্থা করা হয়।

বরের বাবা বলেন, ছেলের দাদি বলেছেন, আমার নাতি বড় হলে পালকিতে বিয়ে করামু। কিন্তু ছেলের দাদির সে বলা কথা আমার প্রতিদিন মনে পড়তো। আমিও সে কথা লালন করি। আমি আমার বড় ছেলেকে পালকিতে বিয়ের মধ্যে দিয়ে আমার ইচ্ছা পূরণ করলাম।  

ছেলের বাবা আরও বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজির পর বগুড়া জেলার ধনুট উপজেলার মথুরাপুর এলাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া করে পালকি এনে আমি ও আমার স্ত্রী নিজ এলাকায় পালকিতে চড়ে ঘুরেছি। তারপর আমার ছেলেকে বরযাত্রী সাজিয়ে বিয়ে করানোর উদ্দেশ্যে রওনা  হয়েছি। এর মধ্য দিয়ে আমরা হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি।

বর সবুজ ইসলাম বলেন, পালকি আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছিল একসময়। যদিও সেটি এখন আর চোখে পড়ে না। পালকিতে না উঠলে বুঝতে পারতাম না যে কতটুকু মজা আছে। গাড়িতে চড়ছি অনেক, প্রাইভেটকারে উঠছি। এটাতে চড়ি নাই কোনো দিন। পালকিতে চড়ে বিয়ে করতে এসে অনেক মজা পাইছি।

বেহারাদের সর্দার পরেশ দাস (৫০) বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন আর পালকির জন্য তেমন ডাক পড়ে না। তবে মাঝেমধ্যে ডাক পেলে খুব ভালো লাগে। সারা বছর কৃষিসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও পালকির জন্য ডাক পড়লেই সঙ্গীরা ছুটে আসে। প্রতিটি বরযাত্রায় ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার হয়।

ইত্তেফাক/এইচএম