শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মাদকের ছড়াছড়ি, বেড়েছে ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৩২

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় মাদক বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে ইকুরিয়া, হাসনাবাদ, পাড়গেন্ডারিয়া, মোল্লা বাজার, কালীগঞ্জ, খেজুরবাগ, আমবাগিচা, আগানগর কাঠপট্টি রোড, গোলামবাজার, শুভাঢ্যা, তেলঘর, চর মিরেরবাগ, সাতপাখি, ইস্পাহানী, কদমতলী ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ইয়াবাসহ চলে বিভিন্ন মাদকের পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ কারণেই এলাকায় চুরি ডাকাতি, ছিনতাই ও ধর্ষণের ঘটনাও বেড়েছে।

গত ১২ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টায় গোলামবাজার এলাকায় মাদকের চালান হস্তান্তরের খবর পেয়ে এনএসআই সদস্য জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় মাদক কারবারিরা র‍্যাব ও পুলিশের সোর্স সাগরকে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলে। ইতিমধ্যে এনএসআই সদস্য ঘটনাস্থল থেকে গোলামবাজার সেতুর কাছে গিয়ে অবস্থান নেন। তখন সোর্স সাগর, সুজন, আশ্রাফ আলী, সাকিল ও মামুন গং এনএসআই সদস্য  জহিরকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বড় ধরনের বিপদ থেকে মুক্তি পান ঐ পুলিশ সদস্য। এ ঘটনা গোলামবাজার রোডের জমি ব্যবসায়ী মোল্লা ফারুকের সিসি ক্যামেরায় মারামারির পুরো বিষয়টি রেকর্ডিং হয়েছে।  এলাকাবাসী জানায়, মাদক কারবারিদের হাতে তারা জিম্মি। পুলিশ সদস্য লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় গত ২৬ দিনেও কোনো মামলা না হওয়ায় ও অভিযুক্তদের আটক না করায় তারা হতাশ। তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থল থেকে গতকাল পর্যন্ত সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করেনি পুলিশ। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার এক মাস পার হলেই ঐ ফুটেজ মুছে যাবে। তখন অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। 

অন্য দিকে আব্দুল্লাহপুর বাজার এলাকায় গত ১৭ আগস্ট বেলা ২টার দিকে শত শত ব্যবসায়ী ও মাত্র ২০০ গজ দূরে টহল পুলিশের উপস্থিতিতে ছয় ডাকাত গুলি চালিয়ে ও বোমা ফাটিয়ে ৫০০ ভরি সোনা লুটে নেয়। স্বপন নামে এক জন জুয়েলার্স মালিককে গুলি করে আহত করা হয়। স্বপনের দাবি, ডাকাতরা ঐ এলাকার বাসিন্দা। তাদের সঙ্গে পুলিশের সখ্য আছে। তাই পুলিশ তাদের আটক ও লুণ্ঠিত সোনা উদ্ধার করতে পারছে না।

স্বপন পুলিশের ভূমিকায় হতাশা ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ওহেদুজ্জামান জানান, তিনি ইকুরিয়া এলাকায় মাদক কারবারিদের দ্বারা অতিষ্ঠ। থানায় বহুবার মাদক কারবারিদের নামের তালিকা দিলেও দু-এক জনকে আটক করে পুলিশ দায় সারে। তিনি আরও জানান, কেরানীগঞ্জে এমন অনেক মাদক কারবারি আছে, যারা ১০ বছর আগেও ভাড়া বাসায় থাকত। এখন তারা একাধিক বাড়ির মালিক।

ইত্তেফাক/ইআ