রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আকাশে মেঘ দেখলেই আঁতকে ওঠে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০১

খোলা আকাশের নিচে একটা টিনের ছাপরায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। আকাশে মেঘ দেখলেই আঁতকে ওঠে তারা। কখন বজ্রপাত হয় এমন ভয় মনে গেথে গেছে। মেঘের ডাক আর বিদ্যুৎ চমকানিতে টিনশেডে জড়সড়ো হয়ে বসে থাকে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ক্লাস চলাকালে কুকুর, গরুর ভয়ে থাকতে হয়। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এত সব বিড়ম্বনা মেনেই পাঠগ্রহণ করছে বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪৫ জন শিক্ষার্থী।

নালিতাবাড়ী শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পোড়াগাঁও ইউনিয়নের গারো পাহাড়ের কুল ঘেঁষে এবং খলন নদীর তীরে ‘বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ অবস্থান। তিন জন শিক্ষক আর একজন শিক্ষিকা ১৪৫ জন ছাত্রছাত্রীকে নিচু একটা টিনশেডের ছাপরা ঘরে পাঠদান করাচ্ছেন। এদিকে বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায় দুই বছর আগে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তখন কোনোমতে একটি টিনশেড ছাপরা ঘর করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ছাপরাটি এতটাই নিচু যে একজন শিক্ষক সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ক্লাস নিতে পারেন না। আর এভাবেই চলছে প্রায় দুই বছর ধরে। ৫ম শ্রেণির হিয়ামনি ও ৪র্থ শ্রেণির সেলিম বলে, ‘আকাশে মেঘ দেখলে আমগর বুকটা কাঁপে। বৃষ্টি আসলে বই-খাতা ভিজ্জা যায়। আর ঠাডা (বজ্রপাত) পড়লে তো শেষ। গরমে তো ঘেমে আমরা একাকার হই। আর গরু-ছাগলের অত্যাচার তো আছেই।’

শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, টিনশেড চালাটি এতটাই নিচু ছিল যে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারতাম না। বিদ্যালয়ের টাকায় আমরা কিছুটা সংস্কার করে উঁচু করে নিয়েছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন চন্দ্র পাঠক বলেন, ঠিকাদার নতুন বিল্ডিং ঘরটি তাড়াতাড়িই হস্তান্তর করে দিবে বলছেন। কিন্তু ওদের কাজ তো হচ্ছে ধীর গতিতে।

ঠিকাদারের সহকারী লিটন মিয়া বলেন, আমরা কাজ পাওয়ার পর আগের ঘরটি নিলামে দেওয়া হয়। যারা নিলামে নিয়েছিল তারা ঘর ভাঙতে বিলম্ব করেছে। তাই কাজটি কিছুটা পিছিয়ে গেছে। তবে কাজ শেষ করতে আর বেশিদিন সময় লাগবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, আসলে বিদ্যালয় নির্মাণাধীন থাকা অবস্থায় পাঠদানের জন্য একটি ঘর করে দেওয়ার কথা ঠিকাদারের। তিনি আরো জানান, প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে নতুন ভবন হস্তান্তরে আরও বিলম্ব হবে। তারা ভবন নির্মাণ করতে আরও সময় বাড়িয়ে নিয়েছে। অভিভাবকরা জানান, এটাকে কি ঘর বলা যায় ? ঘরের তো বেড়া থাকে। মোটামুটি ভালো খুঁটি থাকে। আকাশের যে অবস্থা বজ্রপাত হলে উপায় আছে। 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন