রায়পুর সরকারি মত্স্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৮১ পদের ৫৮টি শূন্য!

আপডেট : ১২ জুন ২০১৯, ২২:০৫

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মত্স্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (হ্যাচারি) ৮১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ-সাত বছর ধরে ৫৮টি পদই শূন্য। জনবল সংকটসহ নানা কারণে উত্পাদন মৌসুমে কেন্দ্রে মত্স্য রেণু ও পোনা উত্পাদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে মাছ চাষিদের চাহিদা অনুযায়ী প্রজনন কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা যাচ্ছে না রেণু ও পোনা।

কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চাঁদপুর সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পাধীন দুই হাজার ৪২৮ হেক্টর আয়তনের বদ্ধ জলাশয়, দুই হাজার হেক্টর আয়তনের নদী, বোরপীট খাল ও প্রধান খালগুলোয় রুই জাতীয় মাছের রেণু ও পোনা সরবরাহ করে মাছের উত্পাদন বাড়াতে ৫৪ একর জমির ওপর আশির দশকের দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সরকারি মত্স্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হয়।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মোট ৮১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আছেন মাত্র ২৩ জন। ৫৮টি পদ শূন্য। একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ছয়জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চারজন মত্স্য সম্প্রসারণ সুপারভাইজান, একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ ৫৮টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্মকর্তাদের জন্য সাতটি আবাসিক ভবন রয়েছে। লোকবল না থাকায় চারতলা একটি ও একতলা তিনটি ভবন পরিত্যক্ত পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলোও জীর্ণ হয়ে গেছে। লোকবল সংকটে প্রতিষ্ঠানটিতে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। গত ২০১২ সালের পর থেকে লোকবল কমতে কমতে এখন তা ২৩ জনে দাঁড়ায়।

মত্স্য ও প্রজনন কেন্দ্র অফিস থেকে জানা গেছে, সংস্কার না হওয়ায় কেন্দ্রের মোট ৬৯টি পুকুরের মধ্যে ৩০টি পুকুর কয়েক বছর ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। পুকুরের পাড়গুলো ভেঙে গেছে। শুষ্ক  মৌসুমে বহু পুকুরের পানি শূন্য হয়ে রুই, কাতল, কালিবাউশ, মৃগেলের মা মাছ মরে যায়। রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, ‘বেসরকারি হ্যাচারিগুলোর পোনার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। এজন্য সবাই ঝুঁকছে সরকারি হ্যাচারির দিকে। কর্তৃপক্ষ যদি একটু নজর দেয়, বিশেষ করে জনবল সংকট দূর করে, তবে এ হ্যাচারির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

রায়পুর মত্স্য হ্যাচারির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, হ্যাচারিটি জনবলসহ নানান সমস্যায় অনেকটা জর্জরিত। বিরাজমান সংকটগুলো না থাকলে এ বছর চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ রেণু উত্পাদন করা যেত। প্রজনন কেন্দ্রের সমস্যাগুলো লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হচ্ছে।  তারপরও গত অর্থ বছরে প্রায় ৬০ লাখ টাকার রেণু পোনা বিক্রি করেছি।