রাজারহাটে সিনেমা হল বন্ধ থাকার কারণে বিনোদন-বঞ্চিত এলাকার সাধারণ মানুষ। উপজেলায় এক সময় উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল রাজমহলসহ আরো দুইটি সিনেমা হল চালু ছিল। এই উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের বিনোদনের অন্যতম উৎস ছিল এই তিনটি সিনেমা হল। এক সময় এগুলোতে বিনোদনপ্রিয় মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বিশেষ করে কোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে সিনেমা দেখার ধুম পড়ে যেত। যুবক, বৃদ্ধসহ নানা বয়সের নারী-পুরুষের কোলাহলে মুখরিত ছিল সিনেমা হল প্রাঙ্গণ। টিকিট কেটে সিনেমা দেখার অনুভূতিটাই ছিল অন্যরকম।
উপজেলায় প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সিনেমা হলগুলো বন্ধ থাকায় বিনোদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে হাজারও মানুষ। হারিয়ে যেতে বসেছে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার ঐতিহ্য। কেউ কেউ মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সুস্থ বিনোদন খুঁজে ফিরছে। সিনেমা হল বন্ধ থাকার কারণে তরুণ যুব সমাজ অসুস্থ বিনোদনের দিকে ঝুঁকছে। ৯০-এর দশকে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দল বেঁধে মানুষ আসত উপজেলার প্রাণকেন্দ্রের সিনেমা হলগুলোতে। পরিবার পরিজন নিয়ে সিনেমা দেখতে আসা লোকজনের সংখ্যাও কম ছিল না। এক সময় সবার মুখেমুখে ছিল লাইলী-মজনু, বেদের মেয়ে জোসনা, গাড়িয়ালভাই, সত্যমিথ্যা, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, সত্যের মৃত্যু নাই কিংবা খাইরুন সুন্দরীর মতো সিনেমার নাম। এসব জনপ্রিয় সিনেমাগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে অত্যন্ত আনন্দ সহকারে দেখতেন।
উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রাজমহল নামের সিনেমা হলটি প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পরে তার ভাই চলচ্চিত্র ক্যামেরাম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী কয়েক বছর সিনেমা হলটি চালু রাখলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেই ভবনটি বিভিন্ন গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে শরিফ ও প্রতীক সিনেমা হল দুইটির কোনো ভবন অবশিষ্ট নেই।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দী বাপ্পি বলেন, এই উপজেলায় সিনেমা হলগুলো বন্ধ থাকার কারণে বিনোদনপ্রিয় মানুষ সুস্থ বিনোদন থেকে বঞ্চিত। দেশে এখন অনেক সুন্দর সুন্দর সিনেমা তৈরি হচ্ছে কিন্তু হল না থাকার কারণে সাধারণ মানুষ দেখতে পারছেন না। এই উপজেলায় ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ সিনেমা হল চালু করতে চাইলে তাকে সহযোগিতা করা হবে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ সিনেমা হল চালু করা দরকার বলে আমি মনে করি।
জেলা তথ্য অফিসার শাহজাহান আলী মুঠোফোনে জানান, উপজেলা পর্যায়ে সিনেমা হল তৈরির জন্য সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ সিনেমা হল চালু করতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
