মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নিজেই বানিয়েছেন মোবাইলের স্ট্যান্ড, ভিডিও করায় বেশি মনোযোগ রিকশাচালক ফরিদের

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:০২

ছবি তোলা বা ভিডিও করায় ভালোলাগা তার। তাই খেটে খাওয়ার পাশাপাশি মুঠোফোনে ভিডিও করেন আশপাশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা। তৈরি করেছেন ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলও। নিজের করা ভিডিওগুলো তুলে ধরেন সেখানে।

এই ব্যক্তি একজন রিকশাচালক। নাম ফরিদ মিয়া। কাজেকর্মে তিনি ব্যতিক্রম। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন তিনি। তবে এর পেছনে একটা কারণও রয়েছে। ফরিদের হাতে থাকা কাঠের তৈরি অদ্ভুত একটি মোবাইল স্ট্যান্ডই সবার নজর কেড়েছে।

বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে খোলাসা করলেন ফরিদ। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে স্মার্টফোন কিনেছি। এটা দিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন চিত্রধারণ করি। রাস্তায় অনেক গরীব মানুষকে দেখা যায়, কেউ ভিক্ষা করে, কেউ ফুটপাতে থাকে। আমি তাদের গল্প ভিডিও করি।

যাত্রীরা রাস্তায় প্রায়ই এই স্ট্যান্ড হাতে ফরিদের দেখা পান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি'র সামনে ফরিদের সঙ্গে দেখা হয়। এসময় তিনি বলেন, 'ভিডিও করার সুবিধার জন্য একটা স্ট্যান্ড বানাইছি। এইটা কাঠের। দেখতে আনকমন দেখায়। বাজারে তো স্ট্যান্ড কিনতেই পাওয়া যায়। কিন্তু এই আনকমন জিনিসটাই সবার নজরে পড়ে। আমার বাড়িতে কয়েকটা ফেলনা কাঠের টুকরা ছিল, সেটা দিয়েই এটা বানাইছি। রিকশা চালানো অনেক কষ্ট, এর মধ্যে মোবাইল ধইরা রাখা আরও কষ্ট। কিন্তু এখন স্ট্যান্ড থাকায় সুবিধা হইতেছে। স্ট্যান্ডটা ছোটবড় করা যায়, চতুর্দিকে ঘোরানোও যায়।'

জানা গেল, রিকশা চালিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার সময় ফেসবুকে তা 'লাইভ'ও করতেন তিনি। পরে এক পরিচিত ব্যক্তির পরামর্শে পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল খুলে এখন সেখানে নানারকম ভিডিও আপলোড করছেন।

ফরিদ জেনেছেন, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে আয় করা যায়। তবে সেই আয়ের চাইতে নিজের আনন্দই তার কাছে বড়। তিনি বলেন, 'এমন নেশা হইছে, মাঝেমাঝে রিকশার কথা খেয়াল থাকে না। দেখা গেল ২০ টাকা রোজগার কইরা পাশে কোনো ভিডিও করতে গেছি, আর কোনো খবর থাকে না।'

পাবনা জেলার আমিনপুর থানার সৈয়দপুর গ্রামের এই ফরিদ দুই ছেলে আর মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। বড় ছেলে মাদ্রাসায় পড়ছে। ছোট ছেলেও মাদ্রাসায় ভর্তি হবে। পরিবারে অভাব-অনটন থাকলেও ফরিদের শখ আর খেয়ালিপনার কাছে তা যেন হার মেনেছে। তাই এই রিকশাচালকের মুখে হাসি লেগে থাকে।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন