নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া এবং ডায়েট অনুসরণ করা সমান। ডায়েট চার্ট শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যেও করা হয় না। স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও এর ব্যাপক অবদান আছে। তবে অনেকের খুব দ্রুত ওজন কমাতে হলে ক্র্যাশ ডায়েটের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই ডায়েট সবার জন্য নয়। দ্রুত ওজন কমানো যায় বলেই ক্র্যাশ ডায়েট করবেন না। আজকে এই ক্র্যাশ ডায়েট নিয়েই আলোচনা করব:
ক্র্যাশ ডায়েট আসলে কি?
ক্র্যাশ ডায়েট মানে অল্প খাবারের মাধ্যমে অতি দ্রুত ওজন কমানোর পদ্ধতি। ধরা যাক আপনার দৈনন্দিন চাহিদা ১৮০০ ক্যালরির মত। ক্র্যাশ ডায়েট করলে তা ৭০০ বা ৮০০ ক্যালরিতে নামিয়ে আনতে হবে। খাবারে শর্করা আর চর্বির পরিমাণ তো কমাতেই হবে।
ক্র্যাশ ডায়েটের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। আমাদের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়, কেউ একজন ক্র্যাশ ডায়েট করে সফলতা পেলে তার চার্টটাই আমরা অনুসরণ করি। কিন্তু এতে আখেরে ক্ষতিই হয়।
মনে রাখতে হবে। প্রতিটি মানুষের দেহের গড়ন একদম আলাদা। আবার প্রত্যেকের খাবার ধরন এক নয়। বিশেষজ্ঞরা সবদিক বিবেচনা করেই ডায়েট চার্ট দেন।
ক্র্যাশ ডায়েট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া অনুসরণ করতে গেলে শরীরে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সেগুলো কি? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
ক্র্যাশ ডায়েটের অসুবিধা
- মেয়েরা ক্র্যাশ ডায়েট শুরু করলে হুট করেই মাসিক এর সমস্যা দেখা দেয়।
- বিপাকীয় কার্যাবলী ব্যাহত করে।
- শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান কেড়ে নেয় এবং ইমিউনিটি কমায়।
- হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- শরীরে অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য নষ্ট করে কিডনির সমস্যা তৈরি করে।
- বিষণ্ণতা ও হতাশা বাড়ায়।
- পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টেওপোরেসিস হতে পারে।
- শরীরে কিটোনবডি তৈরি হতে পারে।
- গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে
- শরীরের অভ্যন্তরীণ মূল্যবান অঙ্গ কার্যকারিতা হারাতে পারে।
ক্র্যাশ ডায়েটের কিছু ঝুঁকি থাকেই। না জেনে শুনে শুধু দ্রুত ওজন কমাতেই ক্র্যাশ ডায়েটের পেছনে ছুটবেন না। বরং ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।
