কবি ইউসুফ মুহম্মদের দোঁহা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:১০

দোঁহা শব্দের আভিধানিক অর্থ দুজন বা উভয়। শব্দটি এসেছে ব্রজবুলি ভাষা থেকে। তবে আমরা যে দোঁহার কথা বলছি, বাংলা একাডেমির অভিধানে একে বলা হয়েছে ‘প্রাচীন বাংলার অপভ্রংশ ও মধ্যযুগের হিন্দিতে রচিত দুই চরণ বিশিষ্ট পদ’; এই বাক্যের সঙ্গে একমত হওয়া যায় আংশিকভাবে, সম্পূর্ণভাবে নয়। প্রাচীনকালে দুই চরণের পাশাপাশি শত শত চরণের দোঁহাও রচিত হয়েছে।'

কবি ইউসুফ মুহম্মদের দোঁহা-কাব্যগ্রন্থের চতুর্থ খণ্ড  ‘নেহাই’ নিয়ে আয়োজিত পাঠ প্রতিক্রিয়া ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রাবন্ধিক ও কথাশিল্পী আবুল কাসেম। শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার মিলনায়তনে বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল কাসেম।

তিনি বলেন, ইউসুফ মুহম্মদ অন্তত দুই দশক ধরে দোঁহা চর্চা করছেন। তিনি কবিতাও লেখেন। আর তা করেন ছন্দ-মাত্রা বুঝেই। দোঁহা রচনার ক্ষেত্রে তিনি দৃশ্যত কবীর দাসের অনুরাগী হলেও সরহ, কাহ্নপা, মীরাবাঈ, রহিম, তুলসীদাস এবং সুরদাসের দোঁহা সম্পর্কে ধারণা রাখেন। তবে তিনি জানেন, তিনি একুশ শতকের দোঁহাকার, অষ্টম কিংবা পঞ্চদশ, ষোড়শ শতকের নন। তাই তার দোঁহারি আঙ্গিকে, বিষয়ে, ভাব-বৈচিত্রে একুশ শতকীয় আধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জাতিসত্বার কবি নূরুল হুদা। 

তিনি বলেন, দোঁহাকে যদি শনাক্ত করতে হয়, প্রতিষ্টিত করতে হয়, তাহলে তা লিখতে হবে। দোহার পরিবর্তিত রূপ আছে। ইউসুফ মুহম্মদের দোহায় তা স্থান পেয়েছে। আসলে এক থেকে বহু কিংবা নারী-পুরুষ, আদম-হাওয়ার যে বৃত্ত তার ভেতর ঢুকলেই দোঁহার মমার্থ বোঝা সম্ভব। 

জহির রায়হান ফিল্ম ইন্সটিটিউট ও কবিতার কথা গ্রুপ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন কবি শাহ মোহাম্মদ সানাউল হক। বিশেষ আলোচক ছিলেন কবি আসাদ মান্নান, কবি মিনার মনসুর ও কবি সৈকত হাবিব।

কবি মিনার মনসুর বলেন, রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা কবিতায় পঞ্চকবির আগমন। তাও শতবর্ষ পেরিয়েছে। পঞ্চকবিদের একজন জীবনানন্দ দাশ। আমাদের চেষ্টা করতে হবে তারচেয়ে ভালো লেখার। ইউসুফ মুহম্মদের দোঁহা একটি নিরীক্ষাধর্মী কাজ। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দোঁহা নিয়ে কাজ করছেন। তার নিরীক্ষা সফল হোক। 

অপর আলোচক আসাদ মান্নান স্মৃতিচারণা করেন, কবি ইউসুফ মুহম্মদ কীভাবে তার প্রথম কবিতার বইটির পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দিয়েছিলেন। 

অনুষ্ঠানে নেহাই নিয়ে পাঠপ্রতিক্রিয়া জানান, এ এস এম কামাল উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র নিমার্তা প্রদীপ ঘোষ। নেহাই থেকে পাঠ করেন আবৃত্তিশিল্পী দেওয়ান সাঈদুল হাসান, পারভেজ চৌধুরী ও ফারহানা তৃণা। 

চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদে জন্ম নেওয়া কবি ইউসুফ মুহম্মদের অন্যান্য বইগুলো হলো―‘জল প্রবাহে পদচিহ্ন’ (১৯৮৮), ‘হাত বাড়ালেই বুকের নদী’ (১৯৮৯), ‘চন্দ্রকান্ত বৃষ্টির নিঃসঙ্গ দোঁহা-১’ (২০০২), ‘বিষাদের রেখেছ কী নাম’ (২০০৩), ‘চন্দ্রকান্ত বৃষ্টির নিঃসঙ্গ দোঁহা-২’ (২০০৫), ‘অর্ধেক পুতুল’ (২০০৭) ও ‘জানালায় ঘুম’ (২০১০)। এছাড়াও তার সম্পাদনায় বেরিয়েছে ‘আবুল ফজল স্মারক গ্রন্থ’, ‘অ্যালবাম গণআন্দোলন’ (১৯৮২-৯০), ‘অশোক বড়ুয়া রচনা সংগ্রহ’ ও ‘কবিতার রূপ কবিতার কথা’।

ইত্তেফাক/কেকে