রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চরমপন্থি মানিক ৩৪ বছর পর গ্রেফতার

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩২

চরমপন্থিরা ১৯৮৭ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর থানায় হামলা চালিয়ে এক কনস্টেবলকে হত্যা করে থানার মজুত করা অস্ত্র লুট করে। একই সঙ্গে চরমপন্থিরা গুরুদাসপুর থানায় আটককৃত আরেক চরমপন্থিকে থানা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার দায়েরকৃত মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন চরমপন্থি সাইফুল ওরফে মানিক (৫৬)। গত ৩৪ বছর ধরে তিনি নিজেকে ছাত্তার নামে প্রতিষ্ঠিত করে শ্রমিকের ছদ্মবেশে পলাতক ছিলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। এমনকি তিনি নাম বদলে রূপগঞ্জে ভোটার হন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঐ এলাকায় বসবাস করতেন। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩।

৯ সেপ্টেম্বর রাতে র‍্যাব-৩ এর একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গতকাল শনিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

র‍্যাব জানায়, মানিক ‘সর্বহারা’ দলের সক্রিয় সদস্য। সর্বহারা দলের নেতৃত্বে পরিচালিত সব কার্যক্রমে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন। তার কোনো নির্দিষ্ট পেশা নেই। তিনি নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ এলাকায় ছাত্তার নামে শ্রমিক সরদার হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৮ সালে মানিক তার নাম পরিবর্তন করে সাইফুল প্রধান নামে নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জ এলাকায় ভোটার হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। রূপগঞ্জ এলাকায় তিনি ছাত্তার নামে পরিচিত ছিলেন। রূপগঞ্জ এলাকার মানুষ তার অপরাধ কার্যক্রম সম্পর্কে জানতো না।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৮৭ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার হাটের দিন সকাল ১১টার দিকে একদল চরমপন্থি ছদ্মবেশে লুঙ্গি, গামছা পরা অবস্থায় হাতে পোটলা নিয়ে হাটের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকে। পোটলার মধ্যে তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র লুকানো ছিল। তাদের মধ্যে কিছু লোক অস্ত্র প্রদর্শন করে টেলিফোন অফিস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড বিকল করে দেয়। কয়েক জন থানায় জিডি করার উদ্দেশ্যে থানায় প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে থানা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময়ে থানায় দায়িত্বরত কনস্টেবল হাবিবুর রহমান বাধা দিলে চরমপন্থিরা তাকে গুলি করে হত্যা করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। পরে থানার অস্ত্রাগার লুট করে দুটি এসএমজি, চারটি এসএলআর, ১৮টি রাইফেল ও গোলাবারুদ লুট করে থানার লকআপে বন্দি চরমপন্থি আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তারা একযোগে টেলিফোন অফিস ও থানা কম্পাউন্ডে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় ১৯৮৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০০৭ সালে মামলার রায় ঘোষণা করে আদালত।

 

ইত্তেফাক/ইআ