বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ 

হাত ভাঙার চিকিৎসা করাতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো স্কুলছাত্র

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:০৫

সাভারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙা হাতের অপারেশন করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় তাপস মণ্ডল (১৪) নামের এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লায় অবস্থিত সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিহতের স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়। শনিবার রাত ১০ টার দিকে ওই কিশোরের হাত ভাঙার অপারেশনের জন্য অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার দুই ঘণ্টা পর রাত ১২টায় মারা যায় তাপস।

নিহত তাপস গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার কান্দাপাড়া গ্রামের শশী মণ্ডলের ছেলে। সে স্থানীয় আশরাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। এর আগেও হাসপাতালটিতে ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল এবং হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

নিহতের মামা উত্তম কুমার বলেন, শনিবার রাত ১০ টায় হাসপাতালের ডাক্তার আসার আগেই তাপসকে এনেসথেসিয়া দেওয়া হয়। পরে রাত ১২ টায়  অপারেশনের ডাক্তার এসে বলেন অপারেশন করা যাবে না, সমস্যা আছে। ডাক্তার চলে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে তাপসকে আইসিইউতে নিতে হবে। পরে অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই সাভারের সুপার ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানেই তাপস মারা যায়। 

নিহত কিশোরের বাবা শশী মণ্ডল বলেন, আমার আদরের ছেলেটাকে ওরা ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলল। ছেলে মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। কিন্তু হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় কি মানুষ মারা যায়? হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার কারণেই ছেলেটা মারা গেছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই। 

সাভার সেন্ট্রাল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. অহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি হাসপাতালে ছিলাম না। এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। তবে জানতে পেরেছি গতকাল রাতে ওই কিশোরকে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে একটি ইনজেকশন পুশ করেন সেন্ট্রাল হাসপাতালের এনেসথেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ডা.কামরুজ্জামান জনি। এর পরে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ না পেলেও আমরা প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/এমএএম