দুর্দান্ত বোলিং নৈপুন্যে ওভাল টেস্ট জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ জিতে নিলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। আজ শেষ হওয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মাত্র তিনদিনেই ৯ উইকেটে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে ইংলিশরা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিলো ইংল্যান্ড। লর্ডসে প্রথম টেস্ট ইনিংস ও ১২ রানে জিতেছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যানচেস্টারে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানে জিতে সিরিজে সমতা আনে ইংল্যান্ড।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে দ্য ওভালে শুরু হয় ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সিরিজ নির্ধারনী তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। বৃষ্টির কারনে প্রথম দিন বল মাঠে না গড়ালেও টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেয় ইংল্যান্ড।
এরপর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা স্থগিত ঘোষনা করা হয়। অবশেষে তৃতীয় দিন খেলা শুরু হলে ইংল্যান্ডের বোলারদের তোপে ৩৬.২ ওভারে ১১৮ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন মার্কো জানসেন। ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন ৪৯ রানে ৫টি ও স্টুয়ার্ট ব্রড ৪১ রানে ৪টি উইকেট নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে নিজেরাও ব্যাট হাতে ভালো করতে পারেনি ইংল্যান্ড। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৬.২ ওভার খেলে ১৫৮ রানে অলআউট হয় ইংলিশরা। সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ওলি পোপ। দক্ষিণ আফ্রিকার জানসেন ৩৫ রানে ৫টি ও কাগিসো রাবাদা ৮১ রানে ৪টি উইকেট নেন।
৪০ রানে পিছিয়ে থাকার পর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসেও ভালো কিছু করে দেখাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ৫৬.২ ওভার খেলে ১৬৯ রানে শেষ হয় প্রোটিয়াদের ইনিংস। টেস্ট জিততে ১৩০ রানের টার্গেট পায় ইংল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন অধিনায়ক ডিন এলগার। বল হাতে ইংল্যান্ডের ব্রড আর অধিনায়ক বেন স্টোকস ৩টি করে এবং জেমস এন্ডারসন ও রবিনসন ২টি করে শিকার করেন।
১৩০ রানের জবাবে চতুর্থ দিন শেষে বিনা উইকেটে ৯৭ রান করেছিলো ইংল্যান্ড। আলোক স্বল্পতার কারনে আগেভাগেই শেষ হয়েছিলো চতুর্থ দিনের খেলা। পঞ্চম ও শেষদিনে মাত্র ১ উইকেত হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ৩৯ রান করা অ্যালেক্স লিসের একমাত্র উইকেটটি তুলে নেন প্রোটিয়া পেসার রাবাদা।
এরপর অলি পোপকে নিয়ে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন জ্যাক ক্রলি। ৬৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। ক্রলির সাথে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন পোপ।
ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন রবিনসন। আর যৌথভাবে সিরিজ সেরা হন ইংলিশ অধিনায়ক স্টোকস ও প্রোটিয়া পেসার রাবাদা।
সিরিজটি দ্বিতীয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় ১০ ম্যাচে ৬ জয়, ৪ হারে ৭২ পয়েন্ট ও ৬০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে এখন টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা।
অন্যদিকে, ১৯ ম্যাচে ৭ জয়, ৮ হার ও ৪টি ড্রতে ৮৮ পয়েন্ট ও ৩৮ দশমিক ৬০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তম স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। ১০ ম্যাচে ৬ জয়, ১ হার ও ৩টি ড্রতে ৮৪ পয়েন্ট ও ৭০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া।
