জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে উত্তপ্ত নরসিংদীর রাজনীতি

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৩২

নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর হতে যাওয়া এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। পদ প্রত্যাশীরা লবিং-তদবিরে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনীতি।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক যুগ পর ২০১৫ সালে ১৪ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরুকে সভাপতি ও আব্দুল মতিন ভূঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীকালে সভাপতি হিরু এবং সাধারণ সম্পাদক মতিন ভূঁইয়ার মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এতে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে যায় জেলা আওয়ামী লীগ। উভয় গ্রুপই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হয় এবং পৃথকভাবে পালন করে বিভিন্ন কর্মসূচি। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। সে সময় সহসভাপতি জি এম তালেব হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার প্রদান করা হয়।

এদিকে আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই দুই পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সর্বত্র আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতার কথা প্রকাশ না করলেও জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম। সম্মেলনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নরসিংদীর রাজনীতি। বিবদমান দুটি পক্ষ পালটাপালটি সভা সমাবেশ করে চলেছে। শুধু তাই নয়, ফেসবুকেও এক গ্রুপ অপর গ্রুপের বিপক্ষে ছড়াচ্ছে কুৎসা।

জানা গেছে, দুই ভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগের এক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতীক। অপরদিকে রয়েছেন সাবেক পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দখলে নিতে মরিয়া দুটি পক্ষই। সম্মেলনের দিনে ঘোষিত কমিটি যে পক্ষের বিপক্ষে যাবে সে পক্ষই সংঘর্ষে জড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সমাবেশে তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও রায়পুরা উপজেলার সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রভাবিত না হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন ভুল সিদ্ধান্ত দিলে কেউ সম্মেলন স্থান থেকে ফিরে যেতে পারবেন না।

আওয়ামী লীগের তৃলমূল নেতাকর্মীরা জানান, জেলার পদ বঞ্চিত কিছু নেতা একটি প্ল্যাটফরমে এবং পদধারী নেতারা তাদের নিজ বলয়ে দলীয় রাজনীতি ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তাদের এই বিভক্তি প্রভাব ফেলেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সব অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে। বর্তমানে দুই গ্রুপের কোন্দলের কারণে প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীরা দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থার আশু সমাধান খুবই জরুরি।

ইত্তেফাক/ইআ