রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:০৩

তিনদিন ব্যাপী টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের জনজীবন। রোববার থেকে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত কখনো হালকা, কখনো মাঝারি বা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাতে ব্যাপক জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকার নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু আমন ধানের জমি। টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শ্রমজীবী, দিনমজুর ও দৈনন্দিন কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষ। দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। পাখি ও প্রাণিরাও পড়েছে মহাসঙ্কটে।

উপজেলার চান্দাইকোনা বাজারে কথা হয় কাঠমিস্ত্রি পরিমল সুত্রধরের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারের একটি ঘরে আটকে আছেন। বৃষ্টির কারণে আজ আর কাজে যাওয়া হবে না। দিন হাজিরা হিসেবে তাঁরা ৫০০ টাকা করে আয় করেন। এভাবে বসে থাকা মানেই ক্ষতি।'

বৃষ্টির কারণে কর্মহীন দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন বাজারের অন্য শ্রমজীবীরা। রিকশাচালক আবু মুসা বলেন, 'মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে লোকজন ঘরের বাইরে আসে না, তাই পলিথিন মুড়ি দিয়ে বসে থাকা ছাড়া কোনো কাজ নেই।'

বৃষ্টির কারণে উপজেলার অনেক এলাকায় পত্রিকা বিলি করতে পারেননি হকাররা। পত্রিকার তিনজন পাঠক মুঠোফোনে জানান, 'সকালে পত্রিকা না পড়লে ভালো লাগে না। বেলা গড়িয়ে গেলেও এখনও পত্রিকা পাইনি।'

পত্রিকার হকার সামিদুল ইসলাম বেলা আড়াইটার দিকে বলেন, ভোরে পলিথিনে মুড়িয়ে পত্রিকা নিয়ে বের হয়েও ভারী বৃষ্টির কারণে এখনও সব বিলি করতে পারিনি।

উপজেলার প্রসিদ্ধ চান্দাইকোনা বাজার বসে মঙ্গলবার। এই বাজারেই এলাকার সবচেয়ে বেশি পাট কেনাবেচা হয় উন্মুক্ত স্থানে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে গতকাল কৃষকরা বাজারে পাট নিয়ে যেতে পারেননি। বৃষ্টির কারণে গরু ছাগল ও হাঁস-মুরগির বাজারেও আমদানি ও বেচাকেনা একবারেই কম। বৃষ্টিতে বিক্রি কমে যাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।

রেইনকোর্ট পড়ে ছাতা মুড়ি দিয়ে কাঁচাবাজারে আসা পার্শ্ববর্তী চকসাত্রা গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, 'বৃষ্টির কারণে দোকানপাট খুলেছে কম। এরা প্রতিটি জিনিসের দামই বেশি বলছে’। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, 'উপজেলার বিল অঞ্চলের কিছু আমন ধানের জমি তলিয়ে গেছে। তবে বৃষ্টি বন্ধ হলে এসব পানি নেমে যাবে।

ইত্তেফাক/এসএস/এএইচপি