বাকিংহাম প্যালেসে রানির কফিন

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫০

স্কটল্যান্ড থেকে কফিনে বন্দি হয়ে লন্ডনে ফিরে এসেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। শেষবারের মতো ফিরলেন তিনি। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫ মিনিটে বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছায় রানির কফিন বহনকারী গাড়িবহর। কফিন গ্রহণ করেন রাজা চার্লস, তার স্ত্রী ক্যামিলা, প্রিন্স উইলিয়াম, প্রিন্স হ্যারি ও হ্যারির স্ত্রী মেগান, রানির নাতি-নাতনি ও রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে রানির কফিন বহনকারী রয়াল এয়ার ফোর্সের বিমান পশ্চিম লন্ডনের আরএএফ নর্থহল্ট স্টেশনে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেল ওয়ালেস সহ সামরিক ও বেসমারিক প্রশাসনের উর্ধ্বতন ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে বাকিংহাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয় রানির কফিন। আরএএফ নর্থহল্ট স্টেশন থেকে প্যালেসের পথে ১৪ মাইল রাস্তাজুড়ে হাজার-হাজার মানুষ রানিকে শ্রদ্ধা জানাতে অবস্থান নেন।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় বাকিংহাম প্যালেসে পৌছান রাজ চার্লস এবং তার স্ত্রী কুইন কনসর্ট ক্যামিলা। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সফর শেষ করে তারা প্রাসাদে ফিরেছেন। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী রানির কফিন গ্রহণ করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন তারা।

রয়াল এয়ার ফোর্সের এই বিমানটি স্কটল্যান্ডের এডিনবরার থেকে ওয়েস্ট লন্ডনের নর্থহল্টে রানির কফিন বহন করে এনেছে। ছবি: বিবিসি

বিকেলে ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে রয়াল এয়ার ফোর্সের সি-১৭ মডেলের বিমানটি স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরার বিমানবন্দর থেকে রানির কফিন নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান গ্লসগো, উইন্ডারমেয়ার লেক, ম্যানচেস্টার, স্টক-অন-ট্রেন্ট, বার্মিংহাম এবং রয়াল লেমিংটন স্পা-এর ওপর দিয়ে উড়ে যায় বিমানটি।

স্কটল্যান্ড থেকে ফেরার আগে এডিনবরার সেন্ট গিলস গির্জায় রাখা হয় রানির কফিন। সাধারণ মানুষ সেখানে রানিকে এক নজরে শেষ দেখা দেখতে ভীড় জমান। গির্জা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অনেক মানুষ রানিকে সম্মান জানান।

পশ্চিম লন্ডনের আরএএফ নর্থহল্ট স্টেশন থেকে বাকিংহাম প্যালেসের উদ্দেশে রানির কফিন বহনকারী গাড়িবহর দেখতেও রাস্তার দুই পাশে ভীড় করেন হাজার হাজার মানুষ। নিজেদের গাড়ি থামিয়ে নেমে এসে অনেকেই রানির শেষযাত্রা দেখেছেন।

রানির কফিন বহনকারী গাড়ি। ছবি: বিবিসি

স্কটল্যান্ড থেকে রানির মরদেহ আসার খবর জেনে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষ বাকিংহাম প্যালেসে ভীড় জমাতে শুরু করে। মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করেও অনেকে সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেনা ও পুলিশ সদস্যরাও ভীড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে বাকিংহাম প্যালেসের অভ্যন্তরে রানির কফিনকে গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে কফিনটি একদিন রাখার পর বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিয়ে যাওয়া হবে ওয়েস্টমিন্সটার হলে। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে রানির শেষকৃত্য। মরদেহ চারদিন রাখার পর ১৯ সেপ্টেম্বর আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এই অনুষ্ঠানে ৫০০ অতিথি অংশ নেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, রানির শেষকৃত্য এক নজর দেখতে পর্যায়ক্রমে চার লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।

মা দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে রয়াল প্রিন্সেস অ্যানে। ছবি: দ্য রয়াল ফ্যামিলি

স্কটল্যান্ড থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রায় রানির কফিনের সঙ্গে ছিলেন রানির মেয়ে প্রিন্সেস অ্যানে। মায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক বার্তায় তিনি বলেছেন, 'আমি আমার মায়ের জীবনের শেষ ২৪টি ঘণ্টা তার সঙ্গে ছিলাম, এটি আমার পরম সৌভাগ্য। তার জীবনের শেষ অংশে সঙ্গ দিতে পারা নিঃসন্দেহে অনেক বড় সম্মানের। যারা ভালোবেসে এ সময়টায় পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।' ভাই চার্লসকেও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, 'মায়ের মৃত্যুর পর রাজা হিসেবে আমার ভাই চার্লস সমস্ত দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন এবং আমাদের পাশে আছেন। এজন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।' বার্তার শেষ অংশে মায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমার মা, রানি, তোমাকে ধন্যবাদ।'

ইত্তেফাক/এসটিএম