ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা ৫০শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাতা কলমে যে পরিমাণ চিকিত্সক আছে বাস্তবে তা নেই। এক্সরে মেশিন দীর্ঘদিন যাবত বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। রয়েছে লোকবল সমস্যা, সাথে অবকাঠামোর সমস্যা। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নেই চালক। এত সমস্যার কারণে চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে দালালের দৌরাত্ম্য ও মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদের উত্পাত।
জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নবাবগঞ্জ উপজেলার চার লক্ষাধিক মানুষকে সরকারি চিকিত্সাসেবা প্রদানের উদ্দেশে তৈরি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে নানা সংকটের কারণে সমস্যায় পড়ছেন চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৫জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে আছেন মাত্র ১৮জন। ১১ জন চিকিত্সকের কর্মস্থল এখানে হলেও তারা দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। অথচ তারা বেতন পাচ্ছেন নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক হিসেবে। অপর ৬টি পদ খালি রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে । নাক, কান, গলা, অর্থোপেডিক্স, গাইনি, সার্জারি চিকিত্সক নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে রোগীদের সমস্যার শেষ নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, অল্প সংখ্যক চিকিত্সক দিয়ে এত রোগীকে চিকিত্সা দিতে আমরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছি। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৮ মাস ধরে হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। আমি অর্ধশতাধিক বার বিষয়টি জানিয়ে ওপরমহলে চিঠি দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিত্সদের বসার কয়েকটি রুমের সামনে রোগীদের লম্বা লাইন অথচ চিকিত্সক নেই। ফাঁকা পড়ে আছে চিকিত্সকের বসার চেয়ারটি। চিকিত্সক না থাকার কারণ জানতে চাইলে অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ঐ চিকিত্সকসহ বেশ কয়েকজন ঢাকায় থেকে ‘আসা-যাওয়া করে’ রোগী দেখেন। তাঁরা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টায় অফিসে আসেন আবার দুপুরের খাবারের কথা বলে ১টার দিকে চলে যান। আর আসেন না। ফলে যে চিকিত্সকরা স্থায়ীভাবে রোগী দেখেন তাদের উপর চাপ পড়ে বেশি।
হাসপাতালের চিকিত্সকসহ নানা সংকটে প্রাপ্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিদিন হাসপাতালে আসা পাঁচ থেকে ছয়’শ রোগী। ওষুধের সংকটও রয়েছে হাসপাতালটিতে। গত কয়েক মাস পর্যবেক্ষন করে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএসও) ডা. মো. শহীদুল ইসলামের রোগী দেখার কথা না থাকলেও রোগীদের চাপ সামাল দিতে তিনি প্রতিদিন ডাক্তার চেম্বারে বসে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। রহিমা বেগম নামে এক রোগী বলেন, ‘আমি শ্বাসকষ্টের রোগী। টাকার অভাবে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে পারি না। সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাইতে আইসা দেখি এ রোগের ডাক্তার নাই।’ আরেক রোগী রওশনারা বেগম (৪৫) জানান, আমার কয়েকদিন যাবত্ বুকে ব্যথা। হাসপাতালের ডাক্তার তাকে বুক এক্স-রে করাতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালের এক্স- রে মেশিন নষ্ট থাকায় প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে তাকে এক্সরে করাতে বলেছেন ডাক্তার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম জানান, উপজেলার চার লক্ষাধিক মানুষের জন্য ৫০শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল যথেষ্ট নয়। এটাকে দ্রুত একশ’ শয্যা করতে হবে। পাশাপাশি এক্সরে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন স্থাপন করতে হবে। অ্যাম্বুলেন্সের চালক দ্রুত নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া শীঘ্রই সরকারি নিয়ম-নীতির মাধ্যমে শূন্য পদে চিকিত্সক নিয়োগ দিলেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিত্সক সংকট কাটিয়ে উঠবে বলে মনে করেন এই চিকিত্সক। দালালের বিষয়ে তিনি বলেন, আগের চেয়ে এখন অনেকাংশে কমেছে তাদের অত্যাচার। কিছুদিন পর তাও থাকবে না। তিনি জানান, হাসপাতালের সভাপতি ঢাকা-১ আসনের এমপি সালমান এফ রহমানের নিকট আবেদন করা হয়েছে এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন এবং আরও একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। ঢাকা জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম শাহাবুদ্দিন খান মোবাইলফোনে বলেন, এক্সরে মেশিনের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
