মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গত ২৮ অক্টোবর পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট চলাকালে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় সাতদিন বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম গত ৩০ এপ্রিল বড়লেখার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হরিদাস কুমারের আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করলেও মামলার বাদি দাবি করেন, অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি।
অভিযোগপত্রে ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন (৩৪), মো. আলী হোসেন (৩৮), নিজাম উদ্দিন (৩৫), কয়েছ আহমদ (২৮), আলীম উদ্দিন (৪৮), মো. জাকির হোসেন রাজন (২৪), রয়নুল ইসলাম (২৭), জসিম (৩০), হেলাল উদ্দিন (২৮), ফজল আলী (২৫), শামীম (৩৫), শরফ উদ্দিন (৩৫), জুয়েল দাস (২০)। এদের সকলের বাড়ি বড়লেখা উপজেলায়।
মামলার বাদি শিশুটির চাচা আকবর আলী বলেন, অভিযোগপত্রটি অনেকটা গোপনে আদালতে দাখিল করা হয়েছে। পুলিশ আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। চার্জশিট কিভাবে দিয়েছে তাও জানি না। লোকমুখে শোনেছি চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের পরিবারের লোকজন আমার বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করছে। মামলায় একটা স্বাক্ষর আছে আমার। আমাকে জানানো দরকার ছিল।’
আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম মঙ্গলবার বলেন, ‘এজাহারে কারো নাম ছিল না। অজ্ঞাতনামা আসামি ছিল। মামলার তদন্তকালে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্তে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য ও প্রমাণ পাওয়ায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয় বাদি জানেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তের ফলাফল ও অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয় বাদিকে জানানো হয়েছে।’
