মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দার্শনিক শেফ আতালা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:৩৫

ব্রাজিল মানে আমাদের কাছে ফুটবল। কারও কাছে ব্রাজিল মানে বিশাল বিশাল বস্তিতে ডালপালা মেলা অপরাধের আঁতুড়ঘর। পরিবেশবাদীদের কাছে ব্রাজিল মানে মহাবন অ্যামাজন। অন্ধের হাতি দেখার মতোন একেকজনের কাছে একেকরকম সাম্বানৃত্যের দেশ ব্রাজিল ভোজন বিশেষজ্ঞদের কাছে 'আতালা'-র দেশ!' মিলাদ অ্যালেক্সান্ডার ম্যাক আতালা।' ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া এক রন্ধনশিল্পী। যিনি রান্না আর দর্শনের মিশেলে নিজেকে নিয়ে গেছেন অ্যামাজনের মতোই জীবনবোধের গভীরে।

আতালা কৈশোরে পাড়ি জমান ইউরোপে। যোগ দেন বেলজিয়ামের 'হোটেল দ্যে নাম্যুর' রেস্তোরায়। বেলজিয়াম হয়ে ফ্রান্স, তারপর ইতালি। সময়ের পালাবদলে দামি রেস্তোরার হেঁসেলে নিজেকে গড়ে তুলেছেন অল্প অল্প করে। দেশে ফিরে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন 'ডিয়ো অপটিপো ম্যাক্সিমা' বা সংক্ষেপে ডি.ও.এম রেস্টুরেন্ট। ডি.ও.এম-এর আগাগোড়া ব্রাজিলীয় ঢংয়ে গড়া। ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে লাতিন দেশটির সংস্কৃতি, সংগীত, সাজসজ্জা। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, রেস্টুরেন্টের রান্নার ৯০ ভাগের ৫০ ভাগই আসে অ্যামাজন অঞ্চল থেকে।

একসময় স্থানীয় ব্ল্যাক রাইস বা কালো চালকে এড়িয়ে চলতো ব্রাজিলের মানুষ। সেটিকেই হালকা সিদ্ধ কালো চাল, কাঁচা সবজি, বাদাম ও দুধের সমন্বয়ে তৈরি করে পরিণত করেন ব্রাজিলের অন্যতম পছন্দের খাবারে। অ্যামাজনের নানান রকম ফুলের সাথে পিরারুকু মাছের সমন্বয় ঘটান। তবে আতালা আর তার রেস্টুরেন্টকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবে যে জিনিস তা হচ্ছে 'অ্যামাজনিক অ্যান্ট!'

অ্যামাজনের বিষাক্ত পিঁপড়াকে খাবার টেবিলে আনার ভাবনাটা নিছক পাগলামি বৈ অন্য কিছু ছিল না। কিউব করে কাটা এক টুকরো আনারসের উপর বসানো পিঁপড়ার ডিশের চাহিদায় চোখ কপালে উঠবে। কেবল আনারসের উপর নয়, নারকেলের টুকরো কিংবা কখনো শুধু পিঁপড়াটাই পরিবেশন করা এই ডিশ অ্যামাজনিক অ্যান্ট আতালাকে পৌঁছে দিয়েছে খ্যাতির শিখরে। এছাড়াও ডি.ও.এমে ঢুঁ মারলে খাদ্যপ্রেমীদের যে ডিশগুলোর স্বাদ না নিলেই নয় তাদের মধ্যে লাইম অ্যান্ড র‍্যাভিওলি, তুকুপি অ্যান্ড তেপিওকা, পাম্পকিন উইথ তেপিওকা আইসক্রিম অন্যতম।

কখনোই শেফ হবার চিন্তা না করা আতালা এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন রাঁধুনী। তিনি বলেন, 'প্রত্যেক ডিশের পেছনেই একটি গল্প থাকে। আমরা যখন সেই ডিশ মুখে পুরে দেই, বাকিসব বেমালুম ভুলে যাই।' ভবিষ্যৎ দুনিয়ায় যোগাযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হতে চলেছে কোনটি? কেউ এমন প্রশ্ন করলে আমরা হয়তো ফেসবুক, টুইটার কিংবা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমের নাম বলব। বছরে অন্তত তিনবার অ্যামাজনে ঢুঁ মারা আতালার কাছে একই প্রশ্ন জানতে চাওয়া হলে একমুহূর্ত না ভেবে তিনি বলে দেন খাবারের কথা! একেবারে ফেলে দেওয়া কথা নয় মোটেও। সত্যিই, দেশ বিদেশের খাবার চাখতে কত কসরতই না করে ভোজনরসিকরা!

ইত্তেফাক/এসটিএম