রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শিক্ষার্থীর খোঁজে একজন ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:৫৭

জার্মানির ছোট্ট শহর হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প অনেকে শুনেছেন, বই কিংবা গুগলে পড়েছেন। তবে নতুন এক ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার’ সন্ধান পাওয়া গেছে কুমিল্লার তিতাসের নয়াকান্দি গ্রামে। আর এ বাঁশিওয়ালা হলেন নয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফয়জুল আনাম খান। তবে বাঁশিতে তিনি সুর না ধরতে পারলেও হ্যান্ডমাইকে অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত নিশ্চিত করতে প্রতিদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো. ফয়জুল আনাম খান ২০০৩ সালে ২১ জুলাই সহকারী শিক্ষক হিসেবে নয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর বিদ্যালয়টিতে প্রচুর শিক্ষার্থী থাকলেও আশপাশের এলাকায় একাধিক কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকে। নয়াকান্দি গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী হওয়ায় ছোট ছোট সন্তানদেরও সেই কৃষি কাজে সম্পৃক্ত করে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক আনাম প্রতিদিন সকালে হ্যান্ডমাইক নিয়ে এ বাড়ি থেকে ও বাড়িতে গিয়ে মাইকিং করে ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এতে সুফলও পাচ্ছেন।

নয়াকান্দি গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি লিয়াকত আলী জানান, আনাম স্যারকে প্রায়ই মাইকিং করে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকদের অনুরোধ করতে দেখা যায়। বিষয়টি প্রথমে অনেকে খারাপভাবে নিলেও এখন প্রতিটি অভিভাবক এর সুফল পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরাও উত্সাহ নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষক মো. ফয়জুল আনাম খান এ বিষয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থী হচ্ছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাণ। কোনো শ্রেণিতে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষার্থী না থাকে তাহলে পাঠদানেও আনন্দ পাওয়া যায় না। শুধু মনের তাগিদে আমি প্রতিদিন এ কাজটি করে থাকি। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হই। বিদ্যালয় এলাকায় আসতে আধাঘণ্টা সময় লাগে। সকাল ৮টা থেকে ৮টা ৪৫মিনিট পর্যন্ত যতটুকু সম্ভব মাইকিং করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আনার চেষ্টা করে থাকি।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা পারভীন বানু জানান, অল্প কিছুদিন হলো আমি তিতাসে যোগদান করেছি। এর মধ্যে আমি একাধিকবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। করোনা-পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়গুলো থেকে শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে এবং শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হয় সেজন্য আনাম স্যারের কাজটি প্রশংসার যোগ্য। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি।

ইত্তেফাক/এসটিএম