রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ড্রেন-পুকুরের পানিতে ভেসে গেছে সড়ক, ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০৪

রাধানীর আজিমপুর কলোনিতে অগ্রণী স্কুলের সামনের পুকুরে টইটম্বুর পানি। সেই পানি নিষ্কাশনের নেই কোন ড্রেন। আবার উল্টো নির্মাণাধীন ভবনসহ অন্য এলাকার ড্রেনের পানি এসে পড়ছে পুকুরে। এতে ড্রেনের পানি, বৃষ্টির পানি ও পুকুরের পানি একাকার হয়ে ভেসে গেছে সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কলোনির বাসিন্দারা। শুধু বসবাসকারী সরকারি কর্মকর্তারা নয়, অগ্রণী স্কুলের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীরও স্কুলে যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের পাশেই দুটি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। সেই ভবনের পানি এসে পড়ছে পুকুরে। এছাড়া পুকুরের চারদিকে ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। পুকুরে ভাসছে পলিথিনসহ ময়লা আবর্জনা। পানিতে ময়লা আবর্জনা পড়ার কারণে পুকুরের পানিও নষ্ট হয়ে গেছে। পাশের নির্মাণাধীন ভবনের আবর্জনাও এখানে ফেলা হচ্ছে। আর বৃষ্টি হলে সেই পুকুরের পানি বেড়ে মূল সড়কে উঠে যাচ্ছে। এখনো সড়কের মধ্যে পানি রয়েছে। 

এলাকাবাসী জানায়, যখন পুকুরের পাশে এসব ভবনের কাজ শুরু হয়েছে, তখন এই পুকুরের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পানি নিষ্কাশনের সব পথ বন্ধ করে উল্টো ড্রেনের পানি আসছে এখানে। এছাড়া সব ধরনের ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এমনকি মানুষের বর্জ্যও ভাসছে বলে জানায় এলাকাবাসী। পুকুরের পাশে দুটি চায়ের টং দোকান রয়েছে।

তারা জানায়, বৃষ্টি হলেই পানি সড়কে উঠে যায়। এমনকি আমাদের দোকানের ভেতরেও ঢুকে যাচ্ছে। যখন পানি উঠে তখন দোকান বন্ধ রাখি। এই পুকুরের পানি ও সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অগ্রণী স্কুলের আশেপাশের সড়ক একেবারেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কে বড় বড় গর্ত, কাদা পানি, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা পড়ে আছে। যার কারণে মশাও বাড়ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

কলোনিতে বসবাসকারী এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে প্রায় দুই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তার বসবাস। নতুন ভবন নির্মাণ হবে ভালো কথা, কিন্তু যারা এখানে বসবাস করছে তাদের বেকায়দায় ফেলে কেন? কলোনির পুরো পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সড়ক ভাঙাচোরা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা। এর ওপর সড়কে যদি পুকুর উপচে পানি উঠে, তাইলে আমরা এখানে বসবাস করবো কীভাবে। সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকায় যদি এমন অব্যবস্থাপনা হয়, তাইলে অন্য জায়গায় কী অবস্থা? 

অগ্রণী স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিবাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের সামনে এমন পরিস্থিতি হওয়ায় স্কুলেও শিক্ষার্থী কমছে। সড়কে বৃষ্টির পানির কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার মতো পরিবেশ থাকে না। তারা এ ভোগান্তিতে থেকে মুক্তি চেয়েছেন।   

কলোনির পুকুরে পানি বাড়লে মটরের মাধ্যমে পানি সেচতে দেখা গেছে। তবে পুকুরে যে পরিমাণ পানি বাড়ে সে পরিমাণ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। পানির তুলনায় কম সক্ষমতার মটর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানায় দায়িত্বরতরা।

পানি সেচার কাজে নিয়োজিত একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৮ থেকে রাত ১০ পর্যন্ত পানি সেচে তারা। তবে সরু পাইপ ও স্বল্প ধারণ ক্ষমতার মটর দিয়ে সেচার কারণে পানি কমছে না বলে জানান এলাকাবাসী। এ বিষয়ে জানার জন্য দায়িত্বরত গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী উজির আলীকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। 

ইত্তেফাক/এএএম