রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইউএনএফপিএর প্রতিবেদন

এক বছরে দেশে বাল্যবিয়ের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:৩৯

২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে দেশে বাল্যবিয়ের হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবে ওই দুই বছর এই বয়সী প্রায় ২৭ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাল্যবিয়ের ওপর জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। অনুষ্ঠানে শহরের বস্তি এলাকায় মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শিরোনামে আরও একটি জরিপ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপকালে ১৯ বছরের বেশ কিছু তরুণীকে পাওয়া গেছে, যাদের বয়স ২০২০ ও ২০২১ সালের শুরুতে ১৮ বছরের নিচে ছিল। করোনা মহামারির দুই বছরে ১৫–১৯ বছরের যে ২৭ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়েছে তাদের মধ্যে প্রথম বছর (২০২০) বিয়ে হয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশের ও দ্বিতীয় বছর (২০২১) বিয়ে হয়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশের।

এতে আরও বলা হয়, কোভিডের কারণে ২০২০ সালে বাল্যবিয়ের হার কম হয়ে থাকতে পারে। এই সময়ে বুলিংসহ নানা ধরনের সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় মেয়েরা বাল্যবিয়ের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বোধ করছে।

২০২১ সালের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২০টি জেলায় ২ হাজার ৮২০ জন কিশোরী-তরুণীর ওপর জরিপ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জেলায় জেলায় বাল্যবিয়ের হারের ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। যেমন রাঙামাটিতে বাল্যবিয়ে ৪ শতাংশ ও লক্ষ্মীপুরে ৪০ শতাংশ। জরিপের সময় দেখা গেছে, বিবাহিত ওই কিশোরী-তরুণীদের ১৫ শতাংশ ছিল অন্তঃসত্ত্বা। বিবাহিত কিশোরীদের মাত্র ২৪ শতাংশ স্কুলে ফিরেছে।

মাসিক বিষয়ক অন্য এক জড়িপের প্রতিবেদন বলা হয়, স্যানিটারি প্যাড ব্যবহারকারী মেয়ে বা নারীদের ৬৮ শতাংশ নিজে প্যাড কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এখনো ৪২ শতাংশ মেয়ে বা নারী মাসিকের সময় কাপড় ব্যবহার করেন। মাসিকের বিষয়ে তাদের মধ্যে নানা কুসংস্কার কাজ করে।

ইউএনএফপিএর সহায়তায় জরিপটি পরিচালনা করে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। ২০২১ সালের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২০টি জেলায় দুই হাজার ৮২০জন মেয়ের ওপর জরিপ করা হয়। এছাড়াও মাসিক বিষয়ে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় এক হাজার কিশোরী ও নারীকে অন্তর্ভুক্ত করে জরিপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মাসিক নিয়ে প্রচলিত সংস্কার থেকে বের হতে এবং বাল্যবিয়ে রোধে বাবা-ভাইকেও সচেতন হতে হবে।

মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, করোনায় বাল্যবিয়ে বেড়েছে, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া বেড়েছে, শেখার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে বিবিএসের সর্বশেষ জরিপে দেখা যায়, বাল্যবিয়ে কিছুটা কমেছে, ঝরে পড়া সামান্য বেড়েছে। বাল্যবিয়ে ও ঝরে পড়া বিষয়ে গণমাধ্যমে যেভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, বাস্তবে তা ঘটেনি।

 

 

ইত্তেফাক/ইআ