পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার বারবার কথা দিয়েও কথা রাখছে না। তারা মিথ্যাচার করছে। গতকাল বুধবার ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রোহিঙ্গা ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাপের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমারের এক মন্ত্রী জাপানে ফিউচার অব এশিয়া ইভেন্টে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা যাচ্ছে না, এর জন্য দায়ী তারাই। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, মিয়ানমার বারবার কথা দিয়েও কথা রাখছে না। রাখাইনের ৮০০ গ্রামের মধ্যে দুটো গ্রামের ওপর স্টাডি করা হয়েছে। সেটিও মিয়ানমার করিয়েছে আসিয়ানের মাধ্যমে। মাত্র দুটি গ্রামের ওপরে স্টাডি করে তারা বলছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সব ব্যবস্থা খুব ভালো করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমার কথা রাখেনি। রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বিভিন্ন রকম অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এখানে বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা যদি পড়ে থাকে তাহলে উগ্রবাদের জন্ম হতে পারে।
তিনি বলেন, ছয় মাস আগে মিয়ানমারের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে তারা বলেছিল, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কাজ করছে। তারা বারবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। এমনকি মিয়ানমারের নো-ম্যান্সল্যান্ডে যারা আছেন তারাও ফেরত যায়নি।
আমরা প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। কারণ তারা আমাদের বন্ধু। কিন্তু তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিথ্যা বলছে। এমন ডাহা মিথ্যা আমরা মানতে পারি না। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আবারো তাদের অনুরোধ করব। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর প্রতিও অনুরোধ জানাব।
কূটনীতিকদের ব্রিফের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান সবাইকে জানিয়েছি। তারা একবাক্যে আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। মিয়ানমার বিভিন্ন লোক বা সংস্থা দিয়ে যেসব রিপোর্ট তৈরি করছে তা ডাহা মিথ্যা।
চীনের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, সামনের মাসে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরা হবে। চীনকে আমরা বলব, এখানে যদি শান্তি না থাকে, স্থিতিশীলতা না থাকে, তবে তাদের (চীনের) স্বার্থ বিঘ্নিত হবে। এখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়লে তারা যে বিনিয়োগ করেছে বা করবে বলে আশা করছে, সেটি ব্যর্থ হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, কানাডা, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
