বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঘুষ না দেওয়ায় প্রথম হয়েও নিয়োগ না পাওয়ার অভিযোগ 

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০৩

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ঘুষ না দেওয়ায় প্রথম হয়েও নিয়োগ পাননি দুই প্রার্থী। আর এমন অভিযোগ উঠেছে উত্তর কোটালীপাড়া রামমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির বিরুদ্ধে। এদিকে, নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত ওই দুই প্রার্থী। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসে উপজেলার উত্তর কোটালীপাড়া রামমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এই বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে ৮জন ও অফিস সহায়ক পদে ১৭ জন প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। 

এই পরীক্ষায় কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে জয় রায় ও অফিস সহায়ক পদে দেলোয়ার হোসেন মোল্লা প্রথম স্থান অধিকার করেন। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার দিন নিয়োগ বোর্ড এই দুইজনের নাম ঘোষণা করে বিদ্যালয়ে যোগদান করতে বলে। নির্বাচিত এই দুই প্রার্থী যোগদানের জন্য গেলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। 

জয় রায় ও দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমরা দুইজন বিদ্যালয়ে যোগদান করতে গেলে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নরেন্দ্রনাথ হাওলাদারসহ কমিটির লোকজন আমাদের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমরা ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার করলে যোগদান না নিয়ে তারা আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন।’ 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য সব নথিপত্র আমি কমিটির কাছে পাঠিয়েছিলাম। কমিটি ওই দুই প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য অনুমোদন না করে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে।’ 

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নরেন্দ্রনাথ হাওলাদার বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষায় জয় রায় ও দেলোয়ার হোসেন মোল্লা প্রথম স্থান অধিকার করলেও তারা আমাদের কাছে যোগ্য বলে মনে হয়নি। তাই আমরা তাদের বিদ্যালয়ে যোগদান করতে দেইনি। আমরা ওই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছি। নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়ার কারণে এরা দুইজন ঘুষ চাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।’ 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফসার মো. সিদ্দিক নূর আলম বলেন, ‘জয় রায় ও দেলোয়ার হোসেন মোল্লার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ দুটি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইত্তেফাক/এইচএম