বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আলু নিয়ে বিপাকে মুন্সীগঞ্জের কৃষকেরা 

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৩২

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে ২৭টি কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। প্রতিকেজি আলু উৎপাদন খরচ ২০ টাকা হলেও সেপ্টেম্বর মাসে তা বিক্রি হচ্ছে ১৬ টাকায়। এতে বস্তা প্রতি লোকসান হচ্ছে তাদের ৪শ’ টাকা।

গত বছর এ সময়ে কোল্ডস্টোর থেকে ৪৫ শতাংশ আলু খালাস হলেও বর্তমানে তা খালাস হচ্ছে ৩০ শতাংশ। এখনও কোল্ড ষ্টোরগুলোতে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টন আলু সংরিক্ষত রয়েছে। 

উপজেলার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে এ উপজেলায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আলু উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। এরমধ্যে কৃষক জমিতে রেখে কিছু আলু বিক্রি করলেও বেশি দামের আশায় বাকি আলু কোল্ড ষ্টোরগুলোতে মজুদ রেখেছিল। খাবার আলুর পাশাপাশি কোল্ডস্টোরগুলোতে বীজ আলুও রয়েছে। এখনও কোল্ড ষ্টোরগুলোতে সংরক্ষিত আলু অবিক্রিত রয়েছে প্রায় ১লাখ ৫ হাজার টন। 

কৃষক নুরুজ্জামান সরদার জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও টানা বৃষ্টিতে চলতি বছরে জমিতে রোপণ করা বীজ আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আবার আলুর বীজ, সার কিনে শ্রমিক দিয়ে আবারও রোপণ করতে হয়েছে। তাই অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর আলুর চাষের খরচ বেশি হয়েছে। জমিগুলোতে আলু ফলন কমও হয়েছে। ১ হাজার বস্তা আলু কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করেছি। স্টোরেজের ভাড়াসহ প্রতিবস্তা আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ১ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতিবস্তা আলুর বাজার মূল্য ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা। এক হাজার আলুর বস্তায় মোটা অংকের টাকা লোকসান গুনতে হবে।  

শরীফ কোল্ড ষ্টোর ম্যানেজার মো. আলমগীর হোসেন জানান, কৃষকরা দাম না পাওয়ায় কোল্ড ষ্টোর থেকে আলু বের করছে না।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার শরিফ কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকায় কাঁচা বাজার আড়ৎগুলোতে আলু পাঠানোর জন্য কোল্ড স্টোরেজে শ্রমিক দিয়ে আলু বাছাই করে বস্তায় ঢোকাচ্ছেন কৃষক।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার জানান, আলুর মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কৃষকের রোপণ করা আলুর বীজ নষ্ট হওয়ায় পুনরায় আবার বীজ, সার ক্রয় করে আলু রোপণ করেছে আলু চাষিরা। এতে করে তাদের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর আলু উৎপাদন কম হওয়া সত্ত্বেও বাজারে আলুচাহিদা কম। এতে করে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।

ইত্তেফাক/এআই