বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘কেউ কথা রাখেনি’

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪৫

‘কত জনে আইল গেল, সবাই কইয়া গেল, এইবার একখানা ঘর অইব। ভাবলাম ঐ ঘরে থাইকা শান্তিতে মরতে পারমু। কিন্তু ঘর কেউ দিল না। শেষমেশে গঞ্জ থেইক্যা গাড়ি আইল। ঐ গাড়িতে পুলিশ লেখা। পুলিশ আইয়া কইল জেলা থেকে তাগো বড় স্যার আইছে । এখন ঘর হইয়া যাইব। ঐ বড় স্যারে দেইখা কইয়া গেলো, আমারে ঘর কইরা দিব। আমার সাথে ছবিও তুইলা নিল। আর কইল  এতো কষ্ট,আমি এখানে না আসলে জানতামই না। সম্বাদিকরাও ছবি তুইলা নিল। কিন্তু ঘর আর অইল না। ’—কথাগুলো সিংগাইর উপজেলার জামসা গ্রামের এক অসহায় বিধবা বৃদ্ধা কৈকী রানীর।

‘যে ডাল ধরি, সেই ডাল ভাইঙ্গা পড়ে’ শিরোনামে গত ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট ইত্তেফাকে তার জীবনের করুণ অবস্থা বর্ণনায় একটি সংবাদ প্রকাশ হয় তাকে নিয়ে। সংবাদে ছিল  কৈকী রানীর মা-বাবা মারা যান ছোট বেলায়। অগত্যা ঠাঁই নিতে হয় মামার বাড়িতে। এক সময় মামাও মারা যান। জীর্ণ পড়পড় একটি ঘরে বসবাস। সামান্য বৃষ্টিতে সেই ঘরে পড়ে পানি। কুড়িয়ে আনা পলিথিন দিয়ে তৈরি বেড়া। নেই খাট বা চৌকি। মাটিতেই কাটে দিনরাত। যে ভিটিতে বসবাস করেন, সেটা তার মামাত ভাই গোসাই দাস মণ্ডলের। তবে কৈকী রানীর দাবি, এটা তার নিজের জায়গা। পাড়া-পড়শির দেওয়া খাবার খেয়ে বাঁচাতে হয় জীবন। নেতা কিংবা জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ রাখেন না।

ইত্তেফাকের প্রতিবেদন জেলা পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ২২ আগস্ট ছুটে আসেন কৈকী রানীর বাড়িতে। বাস্তব অবস্থা দেখে তিনি বড়ই মর্মাহত হন এবং দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ডিজিটাল যুগে কৈকী রানীর এমন দুরাবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। যা না দেখলে বুঝতেই পারতাম না।’ এমন চিত্র তুলে ধরার জন্য ইত্তেফাককে ধন্যবাদ জানান তিনি। অসহায় কৈকি রানীর ঘর হয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। এটাও বলেন, ঘরের জন্য তার আর কষ্ট করতে হবে না। পুলিশ সুপারের মহানুভবতার কথা শুনে এলাকাবাসীসহ কৈকী রানীও ভীষণ খুশি হন। সিংগাইর থানা পুলিশ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার লোকজনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাও করে সে খবরও ছাপা হয়। কিন্তু তারপরও কৈকীর কপালে জোটেনি মাথা গোঁজার ঠাঁই একখানা ঘর। পেলেন শুধুই আশ্বাস।

ইত্তেফাক/ইআ