বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অভিযোগ প্রত্যাহার না হলে পরমাণু চুক্তি নয় : ইরান

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫৮

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) ইরানের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের চুক্তি করা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্কে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম রাইসি। এদিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনি বলেছেন, শুধু প্রতিরোধ সংগ্রামের মাধ্যমেই দেশকে রক্ষা করা সম্ভব। খবর প্রেস টিভি ও পার্স টুডের।

রাইসি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ কথা প্রমাণ করতে হবে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউ ইয়র্কে পৌঁছান রাইসি। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ইরান পাশ্চাত্যের সঙ্গে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই চুক্তি চায়। তবে সেজন্য তেহরানের বিরুদ্ধে আইএইএতে আনা ভিত্তিহীন অভিযোগগুলোর ইতি টানতে হবে।

পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়ারও সমালোচনা করেন ইবরাহিম রাইসি। তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে বের হয়ে ইরানের সঙ্গে করা চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারেনি। কাজেই ওয়াশিংটন যাতে আবার পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সম্ভাব্য চুক্তিতে তাদের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে। ইরান এ ব্যাপারে যে গ্যারান্টি চায়, সেটি অযৌক্তিক নয়। তেহরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় ফ্রান্সসহ তিন ইউরোপীয় দেশ সম্প্রতি আইএইএতে ইরানের বিরুদ্ধে যে বিবৃতি দিয়েছে, সেটিরও তীব্র সমালোচনা করেন রাইসি। তিনি বলেন, এ ধরনের অগঠনমূলক কাজ করে চুক্তির আশা করা বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়। বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট চলমান পরমাণু আলোচনার ব্যাপারে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে বলে আইএইএ নিশ্চিত করার পরও ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাম্প প্রশাসন একতরফাভাবে এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায়। ইউরোপও যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়।

এদিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনি বলেছেন, ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আট বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষাযুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র প্রতিরোধ সংগ্রামের মাধ্যমে আগ্রাসী বাহিনীর হাত থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষা করা সম্ভব। বুধবার একদল ইরানি সেনা কমান্ডার, সৈনিক ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এদিন ঐ যুদ্ধ শুরুর বার্ষিকী উপলক্ষ্যে পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ সামনে রেখে দেশ রক্ষায় আত্মনিয়োগকারী ব্যক্তিরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ আট বছরের প্রতিরোধযুদ্ধকে ইরানে পবিত্র প্রতিরক্ষাযুদ্ধ নামে অভিহিত করা হয়।  আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ঐ যুদ্ধে ইরানি জনগণের সামনে এই সত্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আত্মসমর্পণ নয়, বরং প্রতিরোধের মাধ্যমেই দেশরক্ষা ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা যায়। তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের পর এরকম একটি আগ্রাসন হতে পারে এটা জানা ছিল। সাদ্দাম এই আগ্রাসন চালিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার পেছনে ছিল বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ।

ইত্তেফাক/ইআ