শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সাফজয়ী আঁখির বাবার সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৩২

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয়ী নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনকে দেওয়া সরকারি জমি নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওসিকে ওই জমিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সেই মামলার নোটিশ দিতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পারকোলা এলাকায় আঁখি খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা আক্তার হোসেনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ।

সাফের শিরোপা জিতে নেপাল থেকে আঁখিরা ফিরেছেন বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে। ঢাকায় ফিরেই পেয়েছেন বীরোচিত সংবর্ধনা।

এদিকে ওই রাতেই মামলার নোটিশ দিতে আঁখির বাড়িতে যায় পুলিশ। এ সময় নোটিশ গ্রহণ করতে না চাইলে আঁখির বাবাকে পুলিশ শাসায় বলে অভিযোগ করেন আঁখির বড় ভাই নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, 'গত রাতে পুলিশ একটি নোটিশ নিয়ে আসে। আমার বাবা নোটিশে স্বাক্ষর করতে না চাইলে খারাপ ব্যবহার করে পুলিশ। আমার বাবাকে থানায় নিয়ে যাবারও হুমকি দেওয়া হয়।'

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে পুলিশ রাতে আঁখির বাড়িতে নোটিশ দিতে যায় । নোটিশ না নেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তার বাবা। পরে ঘটনাটি মীমাংসা করা হয়েছে।

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে সহকারী পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) আঁখির বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ফুটবলার আঁখির জন্য ১ নম্বর খাস খতিয়ানের একটি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মকরম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি ওই জমি তার দখলে রয়েছে দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলায় তিনি ওই জমির মালিকানা দাবি করেননি। মামলার তফসিলে খতিয়ানও উল্লেখ করেননি। প্রকৃতপক্ষে আঁখিকে দেওয়া জমিটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। যেটা এখনও আমাদের দখলে রয়েছে। আঁখির পরিবার যাতে ওই জমি না পায়, সে জন্য একটি চক্র এ মামলা দায়ের করিয়েছে।'

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) লুৎফন নাহার বলেন, 'মামলাটি যখন ফাইলিং হয়, তখন বোঝা যায় না জমিটি কার। পরে আমরা বুঝতে পেরেছি, ওটা ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমি। যেটা ফুটবলার আঁখিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।'

তিনি আরো বলেন, যে কোনো জমি নিয়ে মামলা হতেই পারে। মামলা দায়েরের পর প্রসিডিওর অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উভয়পক্ষকে নোটিশ দিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।'

এর আগে আঁখিকে একটি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই জমির মালিকানা দাবি করে শাহজাদপুরের একজন ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করেন। পরে বিবদমান জমির বরাদ্দ বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানের একটি জমি তাকে বরাদ্দ দেয় স্থানীয় প্রশাসন।

ইত্তেফাক/এসএস