জাপানে এশিয়ান গেমস নারী ফুটবল শুরু হয়েছে। প্রথম ম্যাচেই গোল হজমের রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। গতকাল গ্রুপ পর্বে উত্তর কোরিয়া ১০-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। হারের পর সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার যতটা না ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন, তার চেয়েও ঢের বেশি প্রশংসা করেছেন বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের। বাফুফের সভাপতি সবকিছু করছেন। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ দলের কথা বলেন, ম্যাচের জয়- পরাজয় নিয়ে কথা বলেন। কেন কী হয়েছে, সামনে পরিকল্পনা কি—এসব নিয়ে নানা কথা বলেন। কিন্তু ইংলিশ লিগে খেলে আসা একজন সাবেক ফুটবলার বাংলাদেশে কোচ হয়ে এসে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতির মন রক্ষা করার চেষ্টা করলেন।
বিশ্ব নারী ফুটবলে উত্তর কোরিয়া শক্তিধর দেশ। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জেতাটা কঠিন। সাদা চোখে বললে জিতবে না। তাই যতটা লড়াই করা যায়। এ ধরনের দলের বিপক্ষে সেরা এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলে নামাবেন—এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু তা করেনি কোচ। একাদশ গঠনে বাংলাদেশের মানুষদেরকে চমকে দিয়েছেন পিটার বাটলার। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা একাদশে দলের ভালো ভালো ফুটবলারকে সাইড লাইনে বসিয়ে রেখেছিলেন। ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, সিনিয়র সামসুন নাহার, জুনিয়র সামসুন নাহার, শিউলি আজীমের মতো তুখোড় ফুটবলারদের মাঠের বাইরে বসিয়ে সাত গোল হজমের সিনেমা দেখেছেন। নারী ফুটবলে বাংলাদেশ দলের জার্সি গায়ে ফুটবল যুদ্ধে ভারী অস্ত্র হিসেবে যারা প্রশিক্ষত, পরীক্ষিত এবং পরিচিত, সেই সব ফুটবলারকে মাঠে নামাননি ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার। বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ৭ গোল হজম করার পর ম্যাচ যখন পুরোপুরি উত্তর কোরিয়ার পকেটে ঢুকে গেছে তখন হাফ টাইমের পর একে একে সবাইকে নামিয়েছেন তিনি। পিটার বাটলারের খামখেয়ালিপনায় উত্তর কোরিয়া গোল উৎসব করেছে। আর তাতে দেশের ফুটবলের নাক কাটা যায়। হারতেই পারে, তাই বলে যারা দলের মূল শক্তি তাদেরকে মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখবেন কোচ, এটা কি বিশ্বাস্যযোগ্য। কোচের কথা মনে হচ্ছে তিনি দলের তরুণ ফুটবলারদের পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তিনি হয়তো অভিজ্ঞদের মাঠে না নামিয়ে তরুণদেরকে খেলিয়ে প্রশংসা নিতে চেয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তরুণদের কথাই বলেছেন কোচ। সিনিয়রদের বাদ দিয়ে তরুণদের নিয়ে দল গড়তেই বেশি আগ্রহী। সেটা নাকি নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণের পছন্দ হচ্ছে না। তাই বাফুফের সভাপতির প্রশংসা করছেন তিনি।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একজন কোচ কীভাবে সংবাদ সম্মেলনে মাঠের বাইরের বিষয়ে কথা বলেন। কিরণ কি বলেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা, সামসুন নাহার, মনিকা চাকমা, শিউলী আজীমদেরকে একাদশে নামানো যাবে না। পিটার বাটলার নিজে দল গড়েন। তিনি অনুশীলন করান। দল সিলেকশন করেন। একাদশ গঠন করেন। খেলোয়াড়দের ব্যপারে সব সিদ্ধান্ত তিনিই গ্রহণ করেন। তাহলে কিরণের প্রসঙ্গ আসছে কেন। প্রত্যেকটা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কিরণ বার বার একই কথা বলেছেন, আমি টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে আমরা কিছু করি না। সবই কোচের সিদ্ধান্ত।
পিটার গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের কর্মকর্তারদের ফুটবল জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছিলেন। সেই কোচ এখন অন্য সুরো বাঁশি বাজাচ্ছেন। কোচ নিজেই বলছেন, বাফুফের সভাপতি তাকে সব রকম সহযোগিতা করছেন, তাহলে উন্নতি হচ্ছে না কেন। সভাপতিই যদি সব রকম সহযোগিতা করে থাকেন তাহলে তো আর কোনো সমস্যাই থাকার কথা না। ১০ গোল হজম করে দোষ চাপানোর সূত্র খুঁজছেন। পিটার বাটলারের হয়তো জানা নেই বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সব উন্নয়নের পেছনে মাহফুজা আক্তার কিরণই ছিলেন। ম্যাচের কথা বাদ দিয়ে তাবিথ-কিরণ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন কোচ। দ্বন্দ্ব তৈরি করার মালা গাঁথছেন কোচ।
উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোল হজম করে পিটার বাটলার বলছেন, ‘১০ গোল কোনো ব্যাপার না, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মিয়ানমারের ম্যাচ। কোচ আগেই জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার মতোই রেজাল্ট হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও। হতবাক করে দিয়েছেন এই কোচ। আগেই জানিয়ে দিচ্ছেন বড় ব্যবধানে হারবে। যে কোচ তার নিজের ফুটবলারদের ওপর আস্থা নেই। সেই কোচ একটা দেশের জন্য কি সাফল্য আনতে পারবেন। ১০ গোল হজমের দায় ভার নিচ্ছেন কোচ। বলছেন, 'আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না। এই ফলের দায়ভার আমার। তিনি বলেন, 'হাফ টাইমের পর আমার মেয়েরা ভালো খেলেছে।' প্রথমার্ধে ৭ গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল হজম করেছে। এটাকে বলছেন মেয়েরা ভালো খেলেছে। একটা দল যখন সাত গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, সেই দলটা তখন এমনিতেই দ্বিতীয়ার্ধে গতি কমিয়ে দেয়।

