বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সম্মানজনক বেতন চান সাবিনারা

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:১৭

নারী সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফুটবলারদের অনেকেই উঠে এসেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। পারিবারিকভাবে আর্থিক ব্যবস্থা খুব একটা যে সচল সেটাও নয়। নিজস্ব জমিতে বেড়ার ঘর তুলে মাথা গোঁজার ঠাই করে নিয়েছেন। সেখানে আশার আলো হয়ে আসে ফুটবল । কিন্তু সেই ফুটবলেই যখন পারিশ্রমিকটা নামমাত্র মূল্যের তখন জমিয়ে রাখার আশাও ধীরে ধীরে ফিকে হতে শুরু করে।

সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরপরই ভাবনা আসে বদলে যাওয়ার ৷ উৎসব-আনন্দের ভিড়ে নারী ফুটবলারদের পারিশ্রমিক প্রসঙ্গটাও আলোচনার তুঙ্গে উঠে যায়। যেখানে পুরুষ ফুটবলারদের তুলনায় কয়েক গুণ পিছিয়ে আছেন সাবিনা খাতুনরা। যদিও বাফুফের পক্ষ থেকে পুরুষ ফুটবলাররা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বেতন পান না। বেতন বৈষম্য নিয়ে গত কয়েক দিন নানান প্রশ্নের ঝড় বয়ে যায় বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের ওপর। গতকাল চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে আলোচনার পর সম্মানজনক বেতন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি।

বর্তমানে তিন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা করে বেতন পাচ্ছেন নারী ফুটবলাররা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম সেরা সাফল্য উপহার দেওয়ার পর প্রাপ্য দাবিটা তুলতে ভুলেননি সাবিনা, 'মেয়েদের তো আসলে চাওয়ার শেষ নেই। প্র্যাকটিসের কিছু জিনিস, মেয়েদের বেতন আর আনুষঙ্গিক যে চাহিদাগুলো ছিল সেটা স্যার (সালাউদ্দিন) পূরণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। মেয়েদেরকে সম্মানজনক একটা বেতন দেওয়া হবে। আমার মনে হয় ক্রিকেটের পর শুধু ফুটবলাররাই বেতন পায় এবং আমার কাছে সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে সেটা আমি পজিটিভভাবে নেই। কারণ আমি যেটাই পাই সেটা আমার জন্য যথেষ্ট । অবশ্যই যেহেতু মেয়েরা ভালো করছে, সেহেতু আমার মনে হয় আমাদের ভালো কিছু প্রাপ্য। উনারাও মনে করছেন আমাদের বেতনটা বাড়ানো উচিত। তাই দেখা যাক!

আগামী কয়েক দিন বাফুফে ভবনেই থাকবেন ফুটবলাররা। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে তাদের। ২০ দিনের ছুটির শেষে আবারও ক্যাম্পে ফিরবেন তারা। মনোযোগ দিবেন এশিয়ার সেরা হওয়ার পরিকল্পনায়। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, 'এখন যেহেতু দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দল বাংলাদেশ। তাই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ারই চিন্তাভাবনা থাকবে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমার মনে হয় বিশেষ করে এখন যে সিনিয়র দলটা আছে তারা পরিপক্ব। মেয়েরা আরো পেশাদারিত্বের সঙ্গে খেলছে এবং বুঝতেছে। গত রাতেও সালাউদ্দিন স্যার বলেছেন, উনারা ভেবেছিলেন আমরা ২০২৪-এ সাফ জিততে পারব। কিন্তু তার আগেই দিয়েছি। নারী ফুটবল যে কতটা উন্নতি করেছে সেটা দৃশ্যমান। ফেডারেশনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে এশিয়াতে আমরা ভালো অবস্থানে যেতে পারব।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি